নেপাল সীমান্ত থেকে টিএমসি নেতা জাহাঙ্গীর খান গ্রেপ্তার এসটিএফের

পশ্চিমবঙ্গের টিএমসি নেতা জাহাঙ্গীর খানকে নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি এফআইআর রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। ফলতা কেন্দ্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ও মামলার তদন্ত এখনও চলমান।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায় দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেতা জাহাঙ্গীর খান-কে সোমবার নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুলিশ সূত্রের দাবি, দেশ ছেড়ে নেপালে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে, যেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের রয়েছে। এসব মামলায় একাধিক গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশের সময় জাহাঙ্গীর খানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মহিলাদের গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। তবে এ বিষয়ে এখনও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।

পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং উত্থাপিত সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

জাহাঙ্গীর খান ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে টিএমসি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ২১ মে ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিলেন।

২৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হলে জাহাঙ্গীর খান পরাজিত হন। এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে আর দেখা দেননি। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁকে বাড়ি বা দলীয় কার্যালয় কোথাও দেখা যায়নি। তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল ১৯ মে, যখন তিনি এক সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

মে ২০২৬-এ জাহাঙ্গীর খান কলকাতা হাইকোর্ট-এ একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন। আবেদনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তথ্য চেয়েছিলেন এবং গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নতুন ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালের একটি মামলায় তিনি আদালতের সুরক্ষা পেয়েছিলেন, তবে পরে সেই সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হয়।

নির্বাচনী প্রচারের সময় জাহাঙ্গীর খান তাঁর প্রচার কৌশলের কারণে আলোচনায় আসেন। তিনি নিজেকে পুষ্পা ছবির চরিত্রের আদলে উপস্থাপন করেছিলেন এবং বিভিন্ন সভায় “পুষ্পা ঝুঁকবে না” ধরনের সংলাপ ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর এই প্রচারভঙ্গি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে তা বিতর্কের মুখে পড়ে।

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে জাহাঙ্গীর খান ৭,৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন।

ভোটগ্রহণ চলাকালে একাধিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসে। কিছু বুথে ইভিএমে কারচুপি এবং ওয়েব ক্যামেরার ফুটেজে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ একাধিক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে এবং অন্তত ৬০টি বুথে অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। তবে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলছে।

ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। নির্বাচনের সময় হিংসা ও হুমকির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। জাহাঙ্গীর খানের গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ ও প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

 

Leave a comment