কলকাতা: টানা ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য এবার কিছুটা স্বস্তির খবর। বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপের প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বদলাতে চলেছে আবহাওয়ার মেজাজ। কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, কোথাও ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া—এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গের পর বৃষ্টির প্রভাব বাড়তে পারে উত্তরবঙ্গেও।
![]()
বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ, বদলাচ্ছে আবহাওয়া
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।এই নিম্নচাপের পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানও বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যেতে পারে।
ঝাড়গ্রাম থেকে দুই বর্ধমান—কোথায় কেমন বৃষ্টি?
২৪ ও ২৫ অগাস্ট দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ নজরে রয়েছে—
ঝাড়গ্রাম
পুরুলিয়া
বাঁকুড়া
পূর্ব বর্ধমান
পশ্চিম বর্ধমান
এই জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উপকূলের জেলাগুলিতে বেশি সতর্কতা
পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তুলনামূলক জোরালো হাওয়া বইতে পারে। এই দুই জেলায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় ঘণ্টায় প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
![]()
উত্তরবঙ্গেও বাড়বে বৃষ্টির দাপট
নিম্নচাপের প্রভাব শুধু দক্ষিণবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও ২৪ অগাস্ট বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।২৫ অগাস্ট থেকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২৮ ও ২৯ অগাস্ট জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ফের ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কোথায় কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার জেরে নিচু এলাকা এবং আন্ডারপাসে সাময়িক জলজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ফসল ও উদ্যানপালনে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ঝড়বৃষ্টির সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা
নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সতর্কতা জারি রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
![]()
সাধারণ মানুষের জন্য কী পরামর্শ?
ঝড় ও বজ্রপাতের সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি—
খোলা মাঠে না থাকাই নিরাপদ।
গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়।
জলাশয় বা জমা জলের কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো।
প্রবল বৃষ্টির সময় প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি নিয়ে বেরনো এড়িয়ে চলুন।
স্থানীয় প্রশাসন বা আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখুন।
![]()
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি নিম্নচাপের জেরে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বাড়বে বৃষ্টির দাপট। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও দুই বর্ধমানে ঝোড়ো হাওয়া-সহ বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাতেও জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা।











