কে এই বিচারপতি রবি কুমার দিবাকর? জ্ঞানবাপী থেকে একের পর এক মৃত্যুদণ্ডের রায়, কেন বারবার শিরোনামে ‘সিংহম’ বিচারক?

জ্ঞানবাপী মামলায় জরিপের নির্দেশ থেকে একাধিক মৃত্যুদণ্ডের রায়—কে এই বিচারপতি রবি কুমার দিবাকর? জানুন তাঁর কর্মজীবন, গুরুত্বপূর্ণ মামলা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক।

এজলাসে গুরুতর অপরাধের মামলায় একের পর এক কঠোর রায়—আর সেই কারণেই বিচারপতি রবি কুমার দিবাকরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। মুজাফফরনগরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু কঠোর রায়ের জন্যই নয়, জ্ঞানবাপী মসজিদ সংক্রান্ত মামলায় জরিপের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতির বাইরেও তাঁর নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত।

কে এই রবি কুমার দিবাকর?

রবি কুমার দিবাকর উত্তরপ্রদেশের একজন বিচারক। কর্মজীবনে রাজ্যের একাধিক জেলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আজমগড়, সুলতানপুর, বদাউন, বারাণসী, বরেলি ও চিত্রকূটে কাজ করার পর ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর মুজাফফরনগরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব নেন।গুরুতর অপরাধের মামলায় তাঁর দেওয়া একাধিক কঠোর সাজাই তাঁকে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ শিরোনামে নিয়ে এসেছে।

একের পর এক মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুজাফফরনগরে দায়িত্ব পালনকালে এপ্রিল থেকে অগাস্টের মধ্যে একাধিক পৃথক মামলায় মোট ২২ জন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।এর আগে বরেলিতে কর্মরত থাকাকালীনও বেশ কয়েকটি গুরুতর ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন তিনি। সেই হিসাব ধরলে তাঁর এজলাস থেকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ৩৫-এ পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন কোন মামলায় কঠোর সাজা?

৬ এপ্রিল আইনজীবী সমীর সাইফি হত্যাকাণ্ডে তিনজন দোষীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর ২৮ এপ্রিল একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।জুলাই মাসেও পৃথক মামলায় ২, ৬ এবং ১৭ তারিখে একাধিক মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। অগাস্টের ১২ ও ১৩ তারিখেও কয়েকজন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এছাড়াও কর্তব্যরত অবস্থায় হোমগার্ড হত্যার মামলা এবং জাতীয় সড়কে ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাতেও কঠোর সাজা দেওয়ার নজির রয়েছে।

বরেলিতেও ছিল কঠোর রায়ের নজির

বরেলিতে দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৪ সালের একটি হত্যা ও ডাকাতির মামলায় ‘চিমার হাসান’ গ্যাংয়ের আট সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন রবি কুমার দিবাকর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, গুরুতর অপরাধের মামলায় কঠোর সাজা দেওয়ার প্রবণতা তাঁর বিচারিক কর্মজীবনে নতুন নয়।

জ্ঞানবাপী মামলাতেই জাতীয় পরিচিতি

রবি কুমার দিবাকরকে দেশজুড়ে পরিচিত করে তোলে ২০২২ সালের জ্ঞানবাপী মসজিদ সংক্রান্ত মামলা। তখন তিনি বারাণসীর সিভিল জজ (সিনিয়র ডিভিশন) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।জ্ঞানবাপী চত্বরে ‘শৃঙ্গার গৌরী’-র পূজার অনুমতি চেয়ে দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি মসজিদ চত্বরে জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের মে মাসে সেই জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপের সময় একটি কাঠামো পাওয়া যায়, যাকে হিন্দু পক্ষ ‘শিবলিঙ্গ’ বলে দাবি করেছিল। মুসলিম পক্ষ সেই দাবির সঙ্গে একমত হয়নি।পরবর্তীতে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বারাণসীর জেলা বিচারকের আদালতে স্থানান্তরিত হয়।

বিচারপতির নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন

জ্ঞানবাপী মামলার পর রবি কুমার দিবাকরের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের জুনে তিনি পুলিশকে হুমকি-চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা সামনে আসে। চিত্রকূটে কর্মরত থাকার সময়ও নিজের বাসভবনের নিরাপত্তা বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন তিনি বলে জানা যায়।

এত মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিতর্ক কেন?

একসঙ্গে এতগুলি মৃত্যুদণ্ডের রায় সামনে আসায় বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে। ভারতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘rarest of rare’ বা বিরলতম অপরাধের নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি মামলায় সেই সাংবিধানিক ও বিচারিক নীতিগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।তবে কোনও বিচারকের দেওয়া সাজা নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলার পূর্ণ রায়, প্রমাণ এবং পরবর্তী আপিলের ফলাফল বিবেচনা করা জরুরি।

উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রবি কুমার দিবাকর ফের আলোচনায়। একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলায় কঠোর সাজা দেওয়ার পাশাপাশি ২০২২ সালের জ্ঞানবাপী মামলার নির্দেশের পর থেকেই তিনি জাতীয় স্তরে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘিরে তাঁর বিচারিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a comment