Who Is Premananda Maharaj's Shishya: কে এই রসিক দুলারি শরণ? প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধির পরিচয় জানুন

প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য রসিক দুলারি শরণের আসল পরিচয় কী? জানুন দীপক লোধির পরিচয়, আধ্যাত্মিক জীবনে আসার কাহিনি এবং তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তদন্তের তথ্য।

বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য রসিক দুলারি শরণ নামে পরিচিত দীপক লোধির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা দীপক কয়েক বছর আগে আধ্যাত্মিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরে বৃন্দাবনে এসে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

আসলে কে ছিলেন রসিক দুলারি শরণ?

রসিক দুলারি শরণ কোনও আলাদা ব্যক্তির নাম নয়। তাঁর পূর্বনাম ছিল দীপক লোধি। তিনি মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা ছিলেন। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, আধ্যাত্মিকতার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল এবং পরে তিনি বৃন্দাবনে চলে আসেন।প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তাঁর নাম হয় ‘রসিক দুলারি শরণ’। এরপর তিনি বৃন্দাবনে থেকেই ধর্মীয় ও আশ্রমকেন্দ্রিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কীভাবে আধ্যাত্মিক জীবনে এলেন?

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, দীপক ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। স্নাতক শেষ করার পর তিনি নর্মদা পরিক্রমায় বেরিয়েছিলেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। সেই সময় তিনি সন্ত ভাইয়াজি সরকারের সংস্পর্শে আসেন।এরপর প্রায় দুই বছর আগে তিনি বৃন্দাবনে যান। সেখানেই প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম পান রসিক দুলারি শরণ।

আশ্রমের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিলেন?

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দীপক প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে যুক্ত আশ্রম-পরিসরে থাকতেন এবং আশ্রমের বিভিন্ন কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। একটি রিপোর্টে তাঁকে বৈদ্যুতিক কাজ জানা ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃন্দাবনে চলে যাওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে দীপকের যোগাযোগও সীমিত হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাঁরা দীর্ঘ সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

কী ঘটেছিল মৃত্যুর দিন?

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণ বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জ আশ্রমের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সেই ফুটেজ এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।

কেন তৈরি হয়েছে রহস্য?

মৃত্যুর পরিস্থিতির পাশাপাশি তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাতের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁর ঘর থেকে রক্তের দাগ থাকা একটি গ্রাইন্ডার উদ্ধারের কথা জানিয়েছে একাধিক রিপোর্ট। পুলিশ ফরেনসিক প্রমাণ, সিসিটিভি এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ বোঝার চেষ্টা করছে।তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে এখনই ঘটনাটিকে হত্যা বা আত্মহত্যা—কোনও একটি হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশের তদন্তই এ বিষয়ে পরবর্তী স্পষ্টতা দিতে পারে।

পরিবারের কী দাবি?

দীপকের পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীপকের ধর্মীয় জীবন ও স্বভাবের কথা বিবেচনা করলে আত্মহত্যার বিষয়টি তাঁদের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য নয়।পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর মামা রঘুনাথ প্যাটেল উচ্চপর্যায়ের সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।তবে সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়েছে বলেই তদন্তের কারণ বা মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা প্রমাণিত হয়ে যায় না। সেটি পরিবারের দাবি হিসেবেই রয়েছে।

তদন্তে এখন কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে?

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তকারীরা একাধিক বিষয় পরীক্ষা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

ঘটনাস্থল ও আশ্রমের সিসিটিভি ফুটেজ

উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ও ফরেনসিক প্রমাণ

মৃতের ঘর থেকে পাওয়া সামগ্রী

মোবাইল ও অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য

প্রত্যক্ষদর্শী ও আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট

এই সমস্ত তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করার পরই মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধি ওরফে ‘রসিক দুলারি শরণ’-এর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করছে এবং তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a comment