শেয়ার বাজারে ৫ টাকা, ৮ টাকা বা ১০ টাকার কম দামের শেয়ার প্রায়ই ছোট বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে। কম দাম দেখে অনেকের মনে হয়, সীমিত মূলধনে বেশি সংখ্যক শেয়ার কেনা সম্ভব এবং শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়লে রিটার্নও কয়েক গুণ হতে পারে। এই কারণেই Penny Stocks-এ হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি এবং ধারাবাহিক Upper Circuit দেখা গেলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে।
তবে কম দামের শেয়ার সবসময় সস্তা নয়। একইভাবে, কোনও স্টকে ধারাবাহিক Upper Circuit লাগাও কোম্পানির ব্যবসা শক্তিশালী বা আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার প্রমাণ নয়। Penny Stocks-এ শেয়ারের দাম এবং কোম্পানির প্রকৃত মূল্যায়নের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। এই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
Penny Stocks-এ সাধারণত বড় শেয়ারের তুলনায় ট্রেডিং ভলিউম কম থাকে। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় অল্প পরিমাণ কেনাবেচাও শেয়ারের দামে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনও শেয়ারের দাম ৮ টাকা হলে এবং হঠাৎ সেই শেয়ারে কেনাকাটা বেড়ে গেলে, সীমিত বিক্রি ও কম সংখ্যক উপলব্ধ শেয়ারের কারণে দাম দ্রুত বাড়তে পারে।
শতাংশের হিসাবে এই পরিবর্তন অনেক বড় বলে মনে হতে পারে। অন্যদিকে, বিক্রির চাপ বাড়লে এবং ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে একইভাবে শেয়ারের দাম দ্রুত কমেও যেতে পারে।
শেয়ার বাজারে প্রতিটি স্টকের জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক Price Band থাকে। কোনও শেয়ারে কেনাকাটা এতটা বেড়ে গেলে যে তার দাম নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছে যায়, তখন Upper Circuit লাগে। এর পর একই দিনে ওই সীমার উপরে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করা যায় না।
Penny Stocks-এ কম Free-Float, সীমিত বিক্রি এবং হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদার কারণে এই পরিস্থিতি বারবার তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে FOMO বা Fear of Missing Out বাড়তে পারে। অনেকে মনে করেন, এখন বিনিয়োগ না করলে পরবর্তী ঊর্ধ্বগতির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। তবে শুধুমাত্র Upper Circuit দেখে কোম্পানির গুণমান নির্ধারণ করা যায় না। শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে প্রকৃত ব্যবসায়িক কারণ রয়েছে, নাকি শুধুমাত্র চাহিদা ও সীমিত সরবরাহের প্রভাব রয়েছে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

Penny Stocks-এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে যখন কোনও শেয়ারে ধারাবাহিক Lower Circuit লাগতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করতে চাইলে পর্যাপ্ত ক্রেতা নাও থাকতে পারেন। ফলে বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার থাকলেও তা বিক্রি করার বাস্তব সুযোগ নাও থাকতে পারে। অনেক সময় একটি স্টক পরপর একাধিক ট্রেডিং সেশন ধরে Lower Circuit-এ আটকে থাকতে পারে।
স্ক্রিনে শেয়ারের দাম দেখা গেলেও ওই দামে লেনদেন করা কঠিন হতে পারে। এটিই কম Liquidity-এর অন্যতম বড় ঝুঁকি। প্রয়োজনের সময় বিনিয়োগকারী দ্রুত নিজের অর্থ নগদে পরিণত করতে নাও পারেন।
কম দামের শেয়ারে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, অনলাইন ফোরাম, মেসেজিং গ্রুপ এবং যাচাই না করা খবরের প্রভাবও দ্রুত পড়তে পারে। কোনও কোম্পানির বড় অর্ডার, নতুন অংশীদারিত্ব, অধিগ্রহণ বা সম্প্রসারণের খবর সামনে এলে বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ কেনাকাটা শুরু করতে পারেন। তবে বাজারে প্রচারিত প্রতিটি খবর কোম্পানির প্রকৃত পারফরম্যান্সকে প্রতিফলিত করে না।
অনেক সময় কোনও গুজবের ভিত্তিতে শুরু হওয়া ঊর্ধ্বগতি পরবর্তীতে দ্রুত পতনেও পরিণত হতে পারে। তাই শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার টিপস বা অন্যদের দাবির ভিত্তিতে কোনও স্টকে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শেয়ারের দাম দেখে কোনও স্টক সস্তা না দামি, তা নির্ধারণ করা যায় না। কোনও কোম্পানির মূল্যায়ন বোঝার জন্য Market Capitalisation, Earnings, Debt, Cash Flow, Promoter Holding এবং Valuation-এর মতো একাধিক সূচক পর্যালোচনা করতে হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ৫ টাকার কোনও শেয়ার ৫০০ টাকার শেয়ারের তুলনায় সস্তা হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কোম্পানির মোট শেয়ারের সংখ্যা এবং তার ব্যবসার আকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।











