World Elephant Day: নদীতে নেমে গজরাজকে স্নান বনমন্ত্রীর, ৪৪ ফুটের বিশাল কেক! ডুয়ার্সে বিশ্ব হাতি দিবসে অভিনব আয়োজন

World Elephant Day 2026-এ ডুয়ার্সে অভিনব আয়োজন। নদীতে নেমে হাতিকে স্নান করালেন বনমন্ত্রী, কুনকি হাতিদের বিশেষ ভোজ ও ৪৪ ফুটের বিশাল কেক।

World Elephant Day 2026: বিশ্ব হাতি দিবসে বুধবার উৎসবের চেহারা নিল ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকা। গজরাজকে ঘিরে বনদফতরের আয়োজনে ছিল নদীতে স্নান, পুজো, বিশেষ খাবার এবং বিশাল কেক কাটার মতো একাধিক আকর্ষণীয় পর্ব। তবে উৎসবের পাশাপাশি উঠে এল হাতির করিডর ও আবাসস্থল রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও।

নদীতে নেমে হাতিকে স্নান বনমন্ত্রীর

বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে ডুয়ার্সের নদীতে নেমে হাতিকে নিজের হাতে স্নান করান রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। এরপর গজরাজের পুজোরও আয়োজন করা হয়। বনদফতরের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।

কুনকি হাতিদের জন্য এলাহি ভোজ

শুধু স্নান বা পুজো নয়, বিশ্ব হাতি দিবসে কুনকি হাতিদের জন্য বিশেষ খাবারের মেনুও রাখা হয়েছিল। জলদাপাড়া এলাকায় কলা, গম, বিভিন্ন ধরনের সবজি-সহ একাধিক খাবার পরিবেশন করা হয় হাতিদের। তাদের যত্ন ও সংরক্ষণের বার্তাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

৪৪ ফুটের বিশাল কেক, হাতির মুখে তুলে দিলেন মন্ত্রী

গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের উদ্যোগে তৈরি করা হয় প্রায় ৪৪ ফুট লম্বা তিনটি বিশাল কেক। বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে সেই কেক কাটার বিশেষ আয়োজন হয়। বনমন্ত্রী নিজে হাতির মুখে কেক তুলে দিয়ে উদযাপনে অংশ নেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে উৎসাহী মানুষের ভিড়ও নজরে পড়ে।

হাতির করিডর রক্ষার বার্তা বনমন্ত্রীর

উৎসবের পাশাপাশি হাতি সংরক্ষণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। তাঁর বক্তব্য, বন বাঁচলেই হাতি বাঁচবে এবং হাতি বাঁচলে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকবে। হাতির চলাচলের করিডর কোনওভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলেও তিনি জানান।বনমন্ত্রী আরও বলেন, বনাঞ্চল ধ্বংস হলে মানুষ ও হাতির সংঘাত আরও বাড়তে পারে। তাই হাতির উপর অত্যাচার বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ চলাচলের পথও নিশ্চিত করা জরুরি।

বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত, উদ্বেগ পরিবেশপ্রেমীদের

পরিবেশপ্রেমী ও হাতিপ্রেমী শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে ডুয়ার্সে ক্রমবর্ধমান মানুষ-হাতি সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, জঙ্গলের পরিধি ধীরে ধীরে কমছে এবং একইসঙ্গে বাড়ছে রিসর্ট। ফলে উন্নয়নের পাশাপাশি হাতির আবাসস্থল ও করিডর সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

‘জঙ্গলের ইঞ্জিনিয়ার’ হাতি, বললেন সিসিএফ

বনকর্তা তথা সিসিএফ ভাস্কর জিভি জানান, এই অঞ্চলের বহু মানুষ হাতিকে ভগবান হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। তবে শুধুমাত্র বনদফতরের উদ্যোগে হাতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকেও সংরক্ষণের কাজে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর কথায়, হাতি হল জঙ্গলের ইঞ্জিনিয়ার।

বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে ডুয়ার্সে হাতিদের ঘিরে আয়োজন করা হল বিশেষ উৎসবের। নদীতে নেমে নিজের হাতে হাতিকে স্নান করালেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ। জলদাপাড়ায় কুনকি হাতিদের জন্য ছিল বিশেষ ভোজ, আর গরুমারা এলাকায় তৈরি করা হয় প্রায় ৪৪ ফুটের তিনটি বিশাল কেক।

Leave a comment