সাফল্যের গল্প শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু কিছু মানুষের জীবন যেন সত্যিই সিনেমার চিত্রনাট্য। মাত্র ১৭ বছর বয়সে পকেটে ৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে বেঙ্গালুরুতে এসে শুরু করেছিলেন একেবারে শূন্য থেকে। কখনও মঞ্চের পিছনে কাজ, কখনও দর্শকদের চা পরিবেশন—দিনে উপার্জন করতেন মাত্র ৫০ টাকা। সেই সংগ্রামী যুবকই আজ ‘কেজিএফ’ খ্যাত অভিনেতা যশ।
অভিনয়ের স্বপ্নে ১৭ বছরেই বাড়ি ছাড়েন
কর্ণাটকের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম যশের। তাঁর আসল নাম নবীন কুমার গৌড়া। বাবা ছিলেন গাড়িচালক। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি টান থাকলেও পরিবার প্রথমে এই পেশায় আসতে উৎসাহ দেয়নি। কিন্তু নিজের স্বপ্ন পূরণে অনড় ছিলেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরু পাড়ি দেন। সঙ্গে সম্বল বলতে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা।
থাকার জায়গা ছিল না, কাটত অনিশ্চিত রাত
বেঙ্গালুরুতে পৌঁছে যশের সামনে ছিল কঠিন বাস্তবতা। থাকার মতো নির্দিষ্ট জায়গাও ছিল না। কখনও বাসস্ট্যান্ডে, আবার কখনও কলেজের মাঠে রাত কাটাতে হয়েছে তাঁকে। এমনকী পুলিশ এসে সেখান থেকেও তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
চা পরিবেশন করে দিনে ৫০ টাকা
জীবন চালাতে যশ যোগ দেন বেনাকা থিয়েটার গ্রুপে। সেখানে শুরুতে মঞ্চের পিছনের বিভিন্ন কাজ করতেন। দর্শকদের চা পরিবেশন করাও ছিল তাঁর দায়িত্ব। এই কাজের বিনিময়ে দিনে পেতেন প্রায় ৫০ টাকা। তবে থিয়েটারই তাঁকে অভিনয়ের প্রথম বড় সুযোগ দেয়। কোনও অভিনেতা অনুপস্থিত থাকলে ছোট-বড় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেতেন যশ।
প্রথম ছবির আগেই এসেছিল ধাক্কা
থিয়েটারের পর একটি ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু সেই প্রজেক্ট শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। এরপর ২০০৭ সালে ‘জাম্বাদা হুদুগি’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন যশ। ধীরে ধীরে কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন।
‘কেজিএফ’ বদলে দেয় গোটা জীবন
২০১৮ সালে মুক্তি পায় ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ১’। রকি চরিত্রে যশের অভিনয় তাঁকে রাতারাতি জাতীয় স্তরের তারকায় পরিণত করে। এরপর ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর সাফল্য তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণী সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশের দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।
এবার ৪০০০ কোটির প্রজেক্টে রাবণ
বর্তমানে যশের নাম জড়িয়েছে বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ’ ছবির সঙ্গে। ছবিতে তিনি রাবণের চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং সহ-প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। প্রতিবেদনে ছবিটির সম্ভাব্য বাজেট প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ একসময় ৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়া সেই যুবক আজ হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টের অন্যতম মুখ।
একসময় হাতে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। থাকার জায়গা না থাকায় কখনও বাসস্ট্যান্ড, কখনও কলেজের মাঠে রাত কাটিয়েছেন। থিয়েটারে চা পরিবেশন করে দিনে ৫০ টাকা আয় করা সেই যুবকই আজ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। ‘কেজিএফ’-এর সাফল্যের পর যাঁর পরিচিতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, সেই যশ এখন বহু কোটি টাকার বড় প্রজেক্টের অংশ।








