বাজারে এখন টালমাটাল অবস্থা। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারের চাপে মূল্যবান ধাতুর দাম একসময় আকাশছোঁয়া হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহে সেই গ্রাফে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এখন কি সোনা বিক্রি করে দেওয়াই ভালো, নাকি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা উচিত?
গত ১৮ মাসে সোনার সোনালি উত্থান
রিটার্নে চমক
গত দেড় বছরে টাকার নিরিখে সোনার দাম ১০০%-এরও বেশি এবং রুপোর দাম প্রায় ২০০% পর্যন্ত বেড়েছে। এই বিরাট উত্থানের ফলে সোনা-রুপো বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে।
কেন বাড়ল দাম?
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন বাণিজ্য নীতি, মুদ্রাস্ফীতি উদ্বেগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির বড় আকারের ক্রয়—সব মিলিয়ে সোনা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। রুপোর ক্ষেত্রে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার—বিশেষত সৌর প্যানেল, ইভি ও AI প্রযুক্তিতে—চাহিদা বাড়িয়েছে।
এখন কেন চাপের মুখে বাজার?
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সোনা ও রুপো সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়। এরপর থেকেই সংশোধন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপো তার সর্বোচ্চ থেকে প্রায় ৩৬% এবং সোনা প্রায় ৮% পর্যন্ত কমেছে।এই সংশোধন স্বাভাবিক বাজারচক্রের অংশ হলেও উচ্চ দামে কেনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
প্রফিট বুকিং কি এখন যুক্তিযুক্ত?
কিছু ফান্ড ম্যানেজারের মতে, যারা গত ১২-১৮ মাসে সোনা বা রুপো কিনেছেন, তাঁদের আংশিক প্রফিট বুকিং বিবেচনা করা উচিত। বাজার ইতিমধ্যেই বড় রিটার্ন দিয়েছে, তাই লাভের একটি অংশ সুরক্ষিত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।
SIP-এ ধীরে এগোনোর পরামর্শ
আবার কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, বড় অঙ্কে এককালীন বিনিয়োগের পরিবর্তে সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে এক্সপোজার বাড়ানো উচিত। নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ছোট পরিমাণ দিয়ে শুরু করাই নিরাপদ।
বাণিজ্য ঘাটতির প্রভাব
ভারতে সোনা ও রুপোর আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশের বাণিজ্য ঘাটতিকে প্রভাবিত করেছে। আমদানি বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাপও তৈরি হয়েছে। ফলে সরকার ও বাজার উভয়ই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
তাহলে এখন কী করবেন?
বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—
সোনা ইতিমধ্যেই উচ্চ রিটার্ন দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ স্তর থেকে দাম কিছুটা নেমেছে।
মুদ্রাস্ফীতি, মার্কিন সুদের হার ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতেও দামকে প্রভাবিত করবে।
যাঁরা উচ্চ দামে বড় মুনাফায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য আংশিক প্রফিট বুকিং যুক্তিযুক্ত হতে পারে। আর নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই ভালো কৌশল।
গত ১৮ মাসে সোনা ও রুপো নজিরবিহীন রিটার্ন দিয়েছে। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে সর্বোচ্চ স্তর ছোঁয়ার পর বাজারে সংশোধন শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রফিট বুকিংয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়াতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, তারই বিশ্লেষণ রইল।













