১০২ বছর বয়সী এক প্রবীণ দাদির বহুদিনের হরিদ্বার তীর্থযাত্রার ইচ্ছা তাঁর নাতি ও দৌহিত্র পূরণ করেছেন। হাঁটতে অক্ষম হওয়ায় তাঁকে পালকিতে বসিয়ে হরিদ্বারের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গঙ্গা দর্শনের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যদের মতে, প্রবীণ ওই নারীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল একবার হরিদ্বারে গিয়ে গঙ্গা দর্শন করা এবং ধর্মীয় স্থানে প্রণাম করা। বয়সজনিত কারণে তাঁর চলাফেরায় অসুবিধা হওয়ায় নাতি ও দৌহিত্র তাঁর এই ইচ্ছা পূরণের দায়িত্ব নেন।
পালকিতে বসিয়ে তাঁকে হরিদ্বারের ধর্মীয় স্থানগুলোতে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মুখে আনন্দের অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে। দীর্ঘ পথ হেঁটে চলা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই নাতি ও দৌহিত্র তাঁকে পালকিতে বহন করে পুরো যাত্রা সম্পন্ন করেন।
যাত্রাপথে দাদিকে পালকিতে বহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাতি ও দৌহিত্র পালাক্রমে তাঁকে সহায়তা করেন। যেখানে পথ সহজ ছিল, সেখানেও তাঁর আরামের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং যেখানে হাঁটা কঠিন ছিল, সেখানে পালকির সাহায্যে তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
হরিদ্বারে পৌঁছানোর পর পরিবার তাঁর সুবিধার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ১০২ বছর বয়সে ভ্রমণ সহজ নয় বলে তাঁর ক্লান্তি, বিশ্রাম ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ধর্মীয় স্থানগুলোতে দর্শনের সময়ও তাঁকে কোনো তাড়াহুড়ো করতে হয়নি।
দাদির জন্য এই যাত্রার সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত ছিল গঙ্গা দর্শন। হরিদ্বারে পৌঁছে তাঁর বহুদিনের গঙ্গা দর্শনের ইচ্ছা পূরণ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিরাপদে ঘাটে নিয়ে যান এবং ধর্মীয় আচার অনুযায়ী পূজার ব্যবস্থা করেন।
যাত্রাকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে ছবিও তোলেন। পালকিতে বসা দাদি এবং তাঁকে বহন করে নিয়ে যাওয়া নাতি ও দৌহিত্রের ছবি মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই তাঁদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এটিকে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রবীণ নারী নাতি ও দৌহিত্রের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁদের আশীর্বাদ করেন। তিনি বলেন, “ভগবান এমন সন্তান সবাইকে দিন।”
পরিবারের মতে, এই সফর তাঁর কাছে শুধু একটি ধর্মীয় ভ্রমণ ছিল না, বরং পরিবারের সঙ্গে কাটানো একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তাঁর ইচ্ছাকে পরিবার শুধু একটি যাত্রা হিসেবে দেখেনি, বরং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, প্রবীণদের ইচ্ছা সময় থাকতে পূরণ করা উচিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ছোট ছোট ইচ্ছাও বড় আনন্দের কারণ হতে পারে। এই হরিদ্বার সফর তারই একটি উদাহরণ।
এই ঘটনায় নাতি ও দৌহিত্র মিলে দাদির তীর্থযাত্রা সম্ভব করেন। তাঁরা যাত্রার সম্ভাব্য অসুবিধার চেয়ে ১০২ বছর বয়সী প্রবীণের ইচ্ছা পূরণকেই অগ্রাধিকার দেন।
পরিবারের সদস্যদের মতে, তীর্থযাত্রার সময় প্রবীণদের সঙ্গে নিয়ে চলা দায়িত্বপূর্ণ কাজ। এই সফরে দাদির বয়স বিবেচনায় রেখে তাঁকে অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়। পুরো যাত্রাজুড়ে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
দাদি তাঁর নাতি ও দৌহিত্রকে আশীর্বাদ করে তাঁদের ‘শ্রবণ কুমার’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য তাঁর এই আশীর্বাদই হয়ে ওঠে সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত।








