জম্মু-কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গে আনা হলো

বৈধ নথি ছাড়া বসবাসের অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীরে আটক প্রায় ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ বিমানে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে। জলপাইগুড়ির ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
জম্মু-কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গে আনা হলো
Photo Credit / Attribution: Google

জম্মু ও কাশ্মীরে বৈধ নথি ছাড়া বসবাসের অভিযোগে আটক প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে তাদের শ্রীনগর থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের জলপাইগুড়ি জেলার একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার প্রায় ১৫০ জনের এই প্রথম দলটিকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পশ্চিমবঙ্গে স্থানান্তর করা হয়। বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নজরদারিতে তাদের পরবর্তী গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ব্যক্তিদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এরপর ফুলবাড়ি ইমিগ্রেশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের জন্য প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সার্ভে ও ভেরিফিকেশন অভিযান চালানো হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়, যাদের বিরুদ্ধে বৈধ নথি ছাড়া বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও তথ্য সামনে এসেছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫০ জনকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। প্রথমে পরিচয় ও নথি যাচাই করা হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব, নথি এবং ভারতে বসবাসের বৈধতা যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে এত বড় একটি দলকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সাধারণ পরিবহণের পরিবর্তে বিশেষ বিমান এবং পরে নিরাপত্তা বাহিনীর যানবাহন ব্যবহার করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ডিটেনশন ক্যাম্প পর্যন্তও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এই প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আনা ব্যক্তিদের পশ্চিমবঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়ার পর সীমান্ত-সংক্রান্ত নির্ধারিত ইমিগ্রেশন চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার পর ফুলবাড়ি ইমিগ্রেশন সেন্টারের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে এই যাচাই অভিযান এক বা দুটি এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় বসবাসকারী এবং কাজ করা ব্যক্তিদের নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে পুলিশ ও প্রশাসন সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্তকরণ এবং নথি যাচাইয়ের কাজ করছিল। কিছু প্রতিবেদনে ফলের বাগান, ইটভাটা এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের নথিও পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পরিচালিত যাচাই অভিযানে আধার কার্ডসহ অন্যান্য পরিচয়পত্রের তথ্যও পরীক্ষা করা হয়। দ্য প্রিন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ কয়েক মাস ধরে এই ধরনের অভিবাসীদের নজরদারি ও যাচাই করেছিল। নথিতে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে পরবর্তী তদন্ত করা হয় এবং নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়।

এই পদক্ষেপের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের অবৈধ অভিবাসন এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন-সংক্রান্ত বৃহত্তর সমীক্ষারও যোগসূত্র রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অভিবাসন এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে সমীক্ষার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। গত কয়েক বছরে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে হওয়া জনসংখ্যাগত পরিবর্তন-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই কমিটিকে জানানো হয়েছিল যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৬০০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যার প্রেক্ষাপট আলাদা হতে পারে। সর্বশেষ পদক্ষেপে প্রথম পর্যায়ে ১৫০ জনকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যক্তিদের সরাসরি বাংলাদেশে পাঠানোর পরিবর্তে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত পার করে প্রত্যাবর্তনের আগে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়। নাগরিকত্ব ও নথি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর পদক্ষেপ নেবে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে আনা মানেই একই সময়ে সবাইকে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছে, এমন নয়; তাদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫০ জনের এই দলটি প্রথম পর্যায়ের দল। এরপর অন্যদেরও ধাপে ধাপে পশ্চিমবঙ্গে এনে বাংলাদেশে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। NDTV এবং অন্যান্য প্রতিবেদনে ৭ অক্টোবর আরও ১৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ডিপোর্ট করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল।

এই পদক্ষেপের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ হঠাৎ এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সমস্যা এক বিষয়, কিন্তু ১৫০ জনকে হঠাৎ বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া তাঁর কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এই ধরনের ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা এবং কেন্দ্রের নির্দেশের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে নথি যাচাই ও সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে BSF এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় একাধিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। প্রথমে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচয় ও নথি যাচাই করা হয়। এরপর আটক ব্যক্তিদের বিশেষ বিমানে বাগডোগরায় আনা হয়। পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছানোর পর BSF এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নথি ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনগুলিতে এই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে “অবৈধ বাংলাদেশি” অথবা “বৈধ নথি ছাড়া বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক” ধরনের শব্দ কর্মকর্তাদের অভিযোগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান সংশ্লিষ্ট নথি এবং সক্ষম কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। ফলে প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে প্রায় ১৫০ জনকে জলপাইগুড়ির ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর সীমান্ত-সংক্রান্ত নির্ধারিত কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী দিনে অন্যান্য সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের পশ্চিমবঙ্গে স্থানান্তরের এই পদক্ষেপটি আলোচনায় এসেছে, কারণ এত বড় একটি দলকে একসঙ্গে বিশেষ বিমানে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া প্রথমবার সামনে এসেছে। কেন্দ্র এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পদক্ষেপ এখন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে শনাক্তকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; যাচাই, আটক, স্থানান্তর এবং প্রত্যাবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে প্রশাসনের অগ্রাধিকার হলো আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও নথি যাচাই সম্পন্ন করে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো। প্রথম পর্যায়ে ১৫০ জনকে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে এবং বাকিদেরও ধাপে ধাপে পাঠানো হতে পারে বলে তথ্য সামনে এসেছে। পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কেন্দ্র, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন, BSF এবং ইমিগ্রেশন সংস্থাগুলির নজরদারি রয়েছে।

Leave a comment