দিল্লিতে শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা ভারত মণ্ডপমে এক মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতির কারণে সম্মেলনটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শি জিনপিং গত কয়েক বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে ভারতে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ দীর্ঘ বিরতির পর হচ্ছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব পড়ে। সীমান্তে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে আসন্ন বৈঠককে উত্তেজনা কমানো এবং পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনও দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, ভারত ও চীনের উচিত নিজেদের মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামলে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার দিকে নজর দেওয়া।
মোদি-জিনপিং আলোচনায় সীমান্ত ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। দুই পক্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক সংলাপ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৫১ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে চীন থেকে ভারতের আমদানি প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার, আর ভারতের রপ্তানি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

ভারত চায়, চীনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ুক এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কমুক। এছাড়া ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য চীনের বাজারে সুযোগ বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত পণ্যের সরবরাহ সহজ করা, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নিয়ম, ভিসা ব্যবস্থা এবং দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ উন্নত করার মতো বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
ব্রিকস বিজনেস ফোরামের বৈঠকগুলিতেও একে অপরের জন্য বাজার উন্মুক্ত করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভারত চায়, ব্রিকস সদস্য দেশগুলি নিজেদের পণ্য, কাঁচামাল এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জন্য আরও ভালো বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করুক।
বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই ভারতের লক্ষ্য।
চীনের কাছেও ব্রিকস অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। আমেরিকার শুল্ক ও বাণিজ্য নীতির মধ্যে চীন ব্রিকসের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে ভারত ও চীনের কিছু অর্থনৈতিক স্বার্থও অভিন্ন।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশ্কিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। মোদি ও পুতিনের বৈঠক প্রায় ৪৫ মিনিট চলে, আর ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা হয় প্রায় ৪০ মিনিট। দুই বৈঠকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিকস নেতাদের প্রথম প্রধান রুদ্ধদ্বার অধিবেশন দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে। এর বিষয়বস্তু হল অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন এবং বহুপাক্ষিকতাকে শক্তিশালী করা। এরপর নেতারা ‘Bharat Innovates Exhibition’ পরিদর্শন করবেন।
সন্ধ্যায় সরকারি পারিবারিক ছবি তোলা এবং যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত ব্রিকস নেতাদের নৈশভোজের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।










