মঙ্গলবার ভোরে অসমের নগাঁও জেলায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। জাতীয় ভূকম্পন বিজ্ঞান কেন্দ্র (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৫। ভূমিকম্পটি সকাল ৪টা ২৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে অনুভূত হয় এবং এর কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কারণে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। NCS জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের দিকে এই ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। ভোরের সময় ভূমিকম্প হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষ কম্পন অনুভব করেন। কয়েকটি এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিস্থিতিও তৈরি হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যক্তির আহত হওয়া, মৃত্যু বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সরকারি কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
ভূমিকম্পের সময় অধিকাংশ মানুষ নিজেদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের পর স্থানীয় স্তরে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হতে পারে।

অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য অংশে সময়ে সময়ে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যাতেও উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি এলাকায় ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। জাতীয় ভূকম্পন বিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভুটানের গ্যালপোজিং থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ছিল এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়।
ওই সময় অসমের পাশাপাশি গুয়াহাটি এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছিল। শনিবারের ভূমিকম্পটি সন্ধ্যা প্রায় ৪টা ১ মিনিটে রেকর্ড করা হয়। ওই ঘটনাতেও বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসেনি।
উত্তর-পূর্ব ভারত দেশের সবচেয়ে বেশি ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম। অসম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড এবং সংলগ্ন এলাকায় সময়ে সময়ে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন এবং সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের গতিবিধিকে এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে শুধু কম্পনের মাত্রাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে না। ভূমিকম্পের কেন্দ্র কতটা গভীরে রয়েছে, সেটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে কত দূরে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ভবনগুলির নির্মাণ কতটা মজবুত—সহ একাধিক বিষয় ভূমিকম্পের প্রভাব নির্ধারণ করে।











