চংকিংয়ের বন্ধ খনিতে অবৈধ খননের সময় পানি ঢুকে ৭ জনের মৃত্যু, আটক ২১

চীনের চংকিংয়ের কাছে বন্ধ খনিতে কথিত অবৈধ খননের সময় বৃষ্টির পর পানি ঢুকে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ২১ জনকে আটক করে তদন্ত চালাচ্ছে।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর চংকিংয়ের উপকণ্ঠে একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া খনিতে কথিত অবৈধ খনন কার্যক্রম চলাকালীন পানি ঢুকে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টির পর খনির ভেতরে হঠাৎ পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় সেখানে কাজ করা ব্যক্তিরা ডুবে যান। পুলিশ ২১ জনকে আটক করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

চংকিংয়ের ইউয়াং তুজিয়া ও মিয়াও স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টিতে ঘটনাটি ঘটে। এলাকাটি প্রতিবেশী শিউশান কাউন্টির সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের খনিটি আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সরকারি নথিতে এটি পরিত্যক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও সেখানে কথিতভাবে অবৈধ খনন কার্যক্রম চলছিল।

শনিবার পুলিশ খনিটি থেকে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পায়। এরপর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেন এবং সেখানে অবৈধ খনন কার্যক্রমের সন্ধান পান। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভারী বৃষ্টির পর খনির ভেতরে হঠাৎ পানি ঢুকতে শুরু করে। পানির স্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা সাতজন বাইরে বের হতে পারেননি এবং ডুবে মারা যান।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে খনি থেকে সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবোতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

ঘটনার তদন্তের সময় পুলিশ ২১ জনকে আটক করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুর্ঘটনা এবং খনিতে চলা কথিত অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে খনিতে কোন খনিজ অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা কোনো তথ্য দেননি। তদন্ত শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বৃষ্টির পর খনির ভেতরে পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়াই দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ। বন্ধ হয়ে যাওয়া ভূগর্ভস্থ খনিতে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত পানি জমতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে খনির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অবৈধ খনন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার ঘাটতি ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

তবে দুর্ঘটনার সময় খনিতে মোট কতজন মানুষ ছিলেন এবং নিরাপত্তার জন্য সেখানে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা কর্মকর্তারা এখনও জানাননি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বন্ধ খনিতে অবৈধ খনন কার্যক্রম কতদিন ধরে চলছিল, এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় নিরাপত্তা বিধি কতটা মানা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২১ জনকে আটকের পর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রশাসন ঘটনাটিকে শুধু দুর্ঘটনা হিসেবে নয়, অবৈধ খননের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য অপরাধমূলক মামলা হিসেবেও দেখছে।

তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশ এখনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন চংকিংয়ের আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে এর আগেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে ইউয়াংয়ের প্রতিবেশী পেংশুই কাউন্টিতে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ওই ঘটনায় ১০ জন নিখোঁজও হয়েছিলেন। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং আকস্মিক বন্যা বা ভূমিধসের মতো ঘটনা দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের বিভিন্ন অংশে ঝুঁকি তৈরি করে।

নতুন দুর্ঘটনাটি বন্ধ খনিতে অননুমোদিত কার্যক্রমের সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতি যুক্ত হলে তা কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে।

বন্ধ খনিতে অনুমতি ছাড়া খনন কার্যক্রম পরিচালনা করলে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব স্থানে সুড়ঙ্গের স্থায়িত্ব, পানি নিষ্কাশন, বায়ু চলাচল এবং জরুরি নির্গমনের মতো মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নাও থাকতে পারে।

বৃষ্টির সময় এসব খনিতে দ্রুত পানি জমতে পারে। খনিতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে নিরাপদ নির্গমনপথ বা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকলে হঠাৎ পানির স্তর বেড়ে যাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে।

চীনে খনিশিল্পের নিরাপত্তা বিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কঠোরতা বজায় রাখা হয়েছে। এর পরও প্রত্যন্ত এলাকায় অবৈধ খনন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা প্রশাসনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সাতজনের মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। তদন্তে বন্ধ খনিতে অবৈধ কার্যক্রম কার নজরদারি বা পৃষ্ঠপোষকতায় চলছিল এবং কোনো পর্যায়ে নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।

পুলিশ এখনও খনিতে উত্তোলন করা খনিজের নাম প্রকাশ করেনি। দুর্ঘটনার আগে বৃষ্টি বা পানির স্তর বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো সতর্কতা জারি করা হয়েছিল কি না, তাও স্পষ্ট করা হয়নি।

তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের এবং অবৈধ খনন কার্যক্রমের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

Leave a comment