ঝুনঝুনুতে বরখণ্ডী নাথ দর্শনে গিয়ে ৪৫ বছরের সুরেশ জাঙ্গিড়ের মৃত্যু, কাঁধে করে নামানো হল মৃতদেহ

রাজস্থানের ঝুনঝুনুতে বরখণ্ডী নাথ মন্দিরে দর্শনের পর ৪৫ বছরের সুরেশ জাঙ্গিড় অসুস্থ হয়ে মারা যান। প্রাথমিকভাবে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোপওয়ে না থাকায় বন্ধুরা প্রায় এক ঘণ্টা কাঁধে করে পাহাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ নিচে নিয়ে আসেন।

রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলায় ধর্মীয় যাত্রার সময় ৪৫ বছর বয়সি সুরেশ জাঙ্গিড়ের আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোপওয়ে না থাকায় তাঁর বন্ধুরা কাঁধে করে পাহাড় থেকে মৃতদেহ নিচে নিয়ে আসেন।

নওয়ালগড় এলাকার পুজারির ঢানি গ্রামের বাসিন্দা সুরেশ জাঙ্গিড় বুধবার ১২ আগস্ট বন্ধুদের সঙ্গে লোহার্গলের পাহাড়ে অবস্থিত বরখণ্ডী নাথ মন্দিরে দর্শনের জন্য গিয়েছিলেন। মন্দির থেকে ফেরার সময় প্রায় ১০৫১ মিটার বা প্রায় ৩,৪৫০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ি এলাকায় তাঁর আচমকা শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

সুরেশ বুধবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে বরখণ্ডী নাথের দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। জানা যায়, তিনি প্রায় সকাল ১১টার দিকে ধর্মীয় স্থানে পৌঁছান। দর্শনের পর তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কেদার বাবার দর্শনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন।

মন্দির এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ মিটার এগিয়ে নিচে নামার সময় সুরেশ আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুরেশের শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল এবং তাঁর অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কথাও জানা যায়। কিছুক্ষণ তাঁকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চিকিৎসা পরীক্ষার পরই নিশ্চিত করা যাবে।

সুরেশের মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ পাহাড় থেকে নিচে নামানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটি অংশ কঠিন ও পিচ্ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে রোপওয়ে বা তাৎক্ষণিক পরিবহনের অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাঁর বন্ধুরাই মৃতদেহ নিচে নিয়ে আসেন।

পরিবার ও বন্ধুদের মতে, তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা কাঁধে করে পাহাড়ি পথ দিয়ে মৃতদেহ নিচে নিয়ে আসেন। পথের ঢাল, পিচ্ছিলতা ও উচ্চতার কারণে তাঁদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে সুরেশের শারীরিক অবস্থা কতটা গুরুতর ছিল এবং ঘটনাস্থলে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে বাস্তবে কত সময় লেগেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তাই মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি চিকিৎসা প্রতিবেদনের পরই নেওয়া যেতে পারে।

সুরেশ জাঙ্গিড় তাঁর বাড়িতে তৈরি জোতারাম বাবার মন্দিরে পুরোহিতের ভূমিকাতেও ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তাঁর বাড়ির মন্দিরে নিয়মিত ভক্তরা আসতেন এবং আশপাশের মানুষের মধ্যে এই মন্দিরের ধর্মীয় গুরুত্ব ছিল।

সুরেশ বাড়িতে আসবাবপত্রের কাজও করতেন এবং এর মাধ্যমে পরিবারের জীবিকায় অবদান রাখতেন। তাঁর পরিবারে ২০ বছরের ছেলে এবং ১৫ বছরের মেয়ে রয়েছে।

বরখণ্ডী পাহাড়ে ভক্তদের সুবিধার জন্য রোপওয়ে প্রকল্পের ঘোষণা আগে করা হয়েছিল। রাজ্য সরকার ২০২৪ সালের বাজেটে এই এলাকায় রোপওয়ে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের জন্য সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার তথ্য সামনে আসে।

তবে এখনও রোপওয়ের নির্মাণ শুরু হয়নি। পর্যটন দফতরের সঙ্গে যুক্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিনিয়োগকারী সামনে না আসায় প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।

রোপওয়ে তৈরি হলে পাহাড়ি এলাকায় যাওয়া এবং সেখান থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ভক্তদের সুবিধা হওয়ার কথা ছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিচে নামাতেও এটি সহায়ক হতে পারে। তবে রোপওয়ে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান নয় এবং পাহাড়ি ধর্মীয় স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার ব্যবস্থার প্রয়োজন থাকে।

ঘটনার পর বরখণ্ডী নাথ ও আশপাশের পাহাড়ি ধর্মীয় স্থানে চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হতে পারে।

সুরেশ জাঙ্গিড়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ চিকিৎসা পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হবে।

 

Leave a comment