Colon Cancer Symptoms: পেটের সমস্যা বারবার হচ্ছে? মলত্যাগে বদল বা রক্তপাত হলে অবহেলা নয়, চিনুন কোলন ক্যানসারের লক্ষণ

মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, মলে রক্ত, দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা ও অকারণে ওজন কমা—কোন লক্ষণগুলি কোলন ক্যানসারের সতর্কবার্তা হতে পারে জেনে নিন।

পেটের গোলমাল, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথাকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই ধরনের উপসর্গ যদি বারবার হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা স্বাভাবিক মলত্যাগের ধরনে হঠাৎ পরিবর্তন আসে, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। কোলন বা কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে শরীরের কিছু পরিবর্তন প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই কোন লক্ষণগুলিকে গুরুত্ব দেবেন, জেনে নিন।

কোলন ক্যানসার আসলে কী?

কোলোরেক্টাল ক্যানসার বলতে কোলন বা রেকটামের কোষে অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিকে বোঝায়। কোলন বা রেকটামে তৈরি হওয়া কিছু পলিপ সময়ের সঙ্গে ক্যানসারে পরিণত হতে পারে।এই রোগের ঝুঁকি বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়লেও তুলনামূলক কম বয়সিদের মধ্যেও কোলোরেক্টাল ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই বয়স কম বলে কোনওঅস্বাভাবিক উপসর্গকে একেবারে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন

হঠাৎ করে মলত্যাগের স্বাভাবিক ধরন বদলে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে। যেমন দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা, বারবার পাতলা পায়খানা হওয়া অথবা কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনও ডায়রিয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দেওয়া।বিশেষ করে এই পরিবর্তন যদি কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

মলে রক্ত দেখলে সতর্ক হন

মলত্যাগের সময় মলের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। পাইলস বা অন্যান্য অনেক কারণেও মলে রক্ত দেখা দিতে পারে, তাই রক্ত মানেই ক্যানসার—এমনটা নয়।তবে রক্তপাতের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি। বারবার মলে রক্ত দেখা গেলে নিজে থেকে কারণ ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

দীর্ঘদিনের ডায়রিয়াও হতে পারে সতর্কবার্তা

কয়েকদিনের সাধারণ পেটের সমস্যা আর দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া এক বিষয় নয়। ওষুধ বা সাধারণ চিকিৎসার পরেও যদি পাতলা পায়খানা বা মলত্যাগের সমস্যা না কমে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা দরকার।বিশেষ করে এর সঙ্গে মলত্যাগের অভ্যাসে অন্য কোনও পরিবর্তন বা পেটে অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বারবার পেটে ব্যথা বা খিঁচুনি?

পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা, চাপ, অস্বস্তি বা বারবার খিঁচুনির মতো অনুভূতিও বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা যেতে পারে।তবে সাধারণ গ্যাস বা বদহজমের সঙ্গে ক্যানসারের উপসর্গকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ ছাড়াই ওজন কমছে?

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চার রুটিনে বড় কোনও পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও যদি অল্প সময়ে অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমতে থাকে, তাহলে এর কারণ খুঁজে দেখা দরকার।অকারণে ওজন কমে যাওয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই এটিকে শুধু ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা করানো উচিত।

কম বয়সিদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি

কোলোরেক্টাল ক্যানসার নিয়ে আলোচনায় কম বয়সিদের মধ্যে রোগ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পেটে ব্যথা, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া এবং আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতার মতো লক্ষণ দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।তবে শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে নিজের রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, মল পরীক্ষা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা করার পর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে পারেন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মলে বারবার রক্ত, দীর্ঘদিনের মলত্যাগের সমস্যা, অব্যাখ্যাত ওজন কমে যাওয়া, ক্রমাগত পেট ব্যথা বা রক্তাল্পতার মতো সমস্যা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে পরিবারের কারও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে বা অন্য ঝুঁকি থাকলে স্ক্রিনিং সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

কোলন বা কোলোরেক্টাল ক্যানসার শুরুতে অনেক সময় সাধারণ পেটের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, মলে রক্ত, দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা বা খিঁচুনি এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। তবে এই লক্ষণগুলির কোনওটিই একা ক্যানসার নিশ্চিত করে না। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।

Leave a comment