শীতের পর গরম পড়তেই অনেকেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি চালু করেন। কিন্তু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করেই এসি চালু করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এসির কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য অসতর্কতাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
গোয়ালিয়রে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন এক মহিলা
২০২৬ সালের ৮ মার্চ গোয়ালিয়রে একটি তিনতলা বাড়িতে এসি চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের ফলে ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার লিক হয়ে আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে অঙ্কিতা আগরওয়াল নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়। বাড়ির দুই শিশু সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য ঘরের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দল তাদের নিরাপদে বের করে আনে।
তিন ঘণ্টা লড়াই করে আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল
ঘটনার খবর পেয়ে দমকল, এসডিআরএফ, বিএসএফ এবং সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, এসির যান্ত্রিক ত্রুটি কতটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
কেন এসি বিস্ফোরণ ঘটে? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির কম্প্রেসারের ভিতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এসি চালানোর সময় কম্প্রেসার রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসকে সংকুচিত করে। কিন্তু কোনও ত্রুটি থাকলে সেই চাপ বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যেতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অতিরিক্ত গরম, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব বা গ্যাস লিকের মতো কারণ।
অতিরিক্ত গরম ও নোংরা ফিল্টার বড় ঝুঁকি
গ্রীষ্মকালে টানা এসি চালালে কম্প্রেসার দ্রুত গরম হয়ে যায়। যদি ফিল্টার বা কয়েলে ধুলো জমে থাকে, তাহলে বাতাসের প্রবাহ কমে যায়। ফলে কম্প্রেসার আরও বেশি চাপের মধ্যে পড়ে এবং বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বাড়ে।
ভুল ইনস্টলেশন ও ওয়্যারিং থেকেও বিপদ
অনেক সময় ভুলভাবে ইনস্টল করা এসি বা পুরনো ওয়্যারিং বড় বিপদের কারণ হয়। ভোল্টেজের ওঠানামা বা শর্ট সার্কিট থেকে স্পার্ক তৈরি হতে পারে, যা বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিকেও আগুন লাগতে পারে
এসি-তে ব্যবহৃত কিছু রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস যেমন R32 বা R290 দাহ্য প্রকৃতির। যদি কোথাও লিকেজ থাকে এবং তার সঙ্গে স্পার্ক তৈরি হয়, তাহলে সহজেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এসি চালানোর আগে যে সতর্কতা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে অন্তত এক বা দুইবার এসি সার্ভিস করানো উচিত। ফিল্টার ও কয়েল পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পেশাদার টেকনিশিয়ান দিয়ে ইনস্টলেশন করাতে হবে। এছাড়া ভোল্টেজের ওঠানামা এড়াতে স্টেবিলাইজার ব্যবহার করা জরুরি।
নিরাপদ ব্যবহারে মানুন কয়েকটি সহজ নিয়ম
এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ব্যবহার করা উচিত। টানা রাতভর চালানো এড়িয়ে চলা ভালো। এসির কাছাকাছি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা উচিত নয়। কোনও অস্বাভাবিক শব্দ, দুর্গন্ধ বা অতিরিক্ত গরম অনুভূত হলে সঙ্গে সঙ্গে এসি বন্ধ করে বিশেষজ্ঞকে ডাকতে হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ এসি চালু করলে বিপদ হতে পারে। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এসির কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চাপ, গ্যাস লিক, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং ভুল ইনস্টলেশন এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ। গ্রীষ্মের আগে এসি চালানোর সময় কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।











