সোশ্যাল মিডিয়ায় Vintage Avatar ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। AI-এর সাহায্যে মানুষ নিজেদের ছবিকে বিভিন্ন দশকের স্টাইলে বদলে নিচ্ছেন। ChatGPT বা Gemini-তে ছবির সঙ্গে উপযুক্ত প্রম্পট ব্যবহার করে ১৯৫০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত বিভিন্ন লুকে ছবি তৈরি করা যায়।
১৯৫০-এর দশকের লুকে সরলতা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং ক্লাসিক সাদা-কালো ফটোগ্রাফির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রম্পটে ব্যক্তির পরিচয়, ত্বকের রং এবং স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে পরিপাটি চুল, সাধারণ শার্ট, খাদি কুর্তা বা নেহরু জ্যাকেট রাখা যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণ খাদি শাড়ি, ন্যূনতম গয়না এবং ঐতিহ্যবাহী হেয়ারস্টাইল ব্যবহার করা যায়। পুরনো দিল্লি বা বোম্বের আবহ, নরম আলো এবং 35mm ফিল্ম গ্রেন ব্যবহার করে সেই সময়ের ফটোগ্রাফির প্রভাব তৈরি করা যায়।
১৯৬০-এর দশকের স্টাইলে ভারতীয় পপ কালচার ও সিনেমার প্রভাব দেখা যায়। পুরুষদের জন্য সাইড-পার্টেড চুল, ফিটেড শার্ট, ট্রাউজার ও ব্লেজার রাখা যায়। মহিলাদের জন্য বুফাঁ হেয়ারস্টাইল, ক্যাট-আই আইলাইনার এবং চুড়িদার-কুর্তা বা শাড়ির লুক ব্যবহার করা যায়। পুরনো শহুরে এলাকা, ভিনটেজ গাড়ি বা স্টুডিও ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে উষ্ণ রং, হালকা ফিল্ম গ্রেন এবং অ্যানালগ ফটোগ্রাফি ইফেক্ট যোগ করা যায়।
১৯৭০-এর দশকের লুক তুলনামূলকভাবে বেশি বোল্ড ও রঙিন। পুরুষদের জন্য লম্বা চুল, সাইডবার্ন, প্রিন্টেড ওপেন-কলার শার্ট, বেল-বটম ট্রাউজার এবং বড় সানগ্লাস রাখা যায়। মহিলাদের জন্য বড় ফ্রেমের সানগ্লাস, ভলিউমিনাস হেয়ারস্টাইল, প্রিন্টেড স্কার্ফ এবং উজ্জ্বল রঙের শাড়ি ব্যবহার করা যায়। পুরনো যানবাহন বা ভারতীয় শহরের রাস্তা, উষ্ণ অ্যানালগ রং এবং 35mm ফিল্ম গ্রেনের মাধ্যমে সেই সময়ের ভিজ্যুয়াল স্টাইল তৈরি করা যায়।
১৯৮০-এর দশকে বড় হেয়ারস্টাইল, উজ্জ্বল পোশাক এবং ফিল্মি স্টাইলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরুষদের জন্য ভলিউমিনাস চুল, রঙিন শার্ট, হাই-ওয়েস্ট ট্রাউজার, সানগ্লাস এবং আত্মবিশ্বাসী পোজ রাখা যায়। মহিলাদের জন্য ভলিউমিনাস ঢেউ খেলানো চুল, কানের দুল বা ঝুমকা, টিপ এবং রঙিন সালোয়ার স্যুট ব্যবহার করা যায়। পুরনো ড্রয়িং রুম, টিভি ক্যাবিনেট বা টেপ রেকর্ডারের মতো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করে সেই দশকের পরিবেশ তৈরি করা যায়।
১৯৯০-এর দশকের স্টাইল তুলনামূলকভাবে বেশি ক্যাজুয়াল। ডেনিম জ্যাকেট, ঢিলেঢালা শার্ট, ক্যাজুয়াল হেয়ারস্টাইল এবং সাধারণ অ্যাক্সেসরিজ ব্যবহার করা যায়। কলেজ ক্যাম্পাস, রেলস্টেশন, রাস্তার ধারের ক্যাফে বা খোলা মাঠের মতো ব্যাকগ্রাউন্ড রাখা যায়। সফট ফোকাস, উষ্ণ প্রাকৃতিক আলো এবং কিছুটা ফিকে রং সেই সময়ের ভিজ্যুয়াল স্টাইল তৈরি করতে পারে।
২০০০-এর দশকের স্টাইলে ভারতে বিশ্বায়িত ফ্যাশন ট্রেন্ডের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেখা যায়। ডেনিম, স্পোর্টি জ্যাকেট, ক্যাপ, সানগ্লাস এবং জেল দিয়ে সেট করা স্পাইকি চুল ব্যবহার করা যায়। পুরুষদের জন্য গ্রাফিক টি-শার্ট, সিলভার চেন, কার্গো প্যান্ট এবং স্পাইকি হেয়ারস্টাইল রাখা যায়। মহিলাদের জন্য গ্লসি লিপস, সোজা চুল, বাটারফ্লাই ক্লিপ এবং সেই সময়ের ক্যাজুয়াল পোশাক ব্যবহার করা যায়। সাইবার ক্যাফে, আর্কেড বা প্রাথমিক ডিজিটাল ক্যামেরার ইফেক্ট ব্যবহার করে ২০০০-এর দশকের লুক তৈরি করা যায়।
এই ছবি তৈরি করতে ChatGPT বা Gemini-তে নিজের ছবি আপলোড করে পছন্দের দশকের প্রম্পট পেস্ট করা যায়। ব্যক্তির পরিচয় এবং মুখের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলে মূল ব্যক্তির পরিচয় বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এভাবে ১৯৫০-এর দশকের ক্লাসিক স্টাইল থেকে ২০০০-এর দশকের Y2K লুক পর্যন্ত বিভিন্ন দশকের ছবি তৈরি করা যায় এবং সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যায়।









