Bankura Tourism: পুজোয় ভিড় এড়িয়ে জঙ্গল-জলাধারের মাঝে নিরিবিলি ছুটি! ঝিলিমিলি-তালবেড়িয়ায় কী দেখবেন, কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন?

Bankura Tourism: পুজোর ছুটিতে নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে ঘুরে আসুন ঝিলিমিলি ও তালবেড়িয়া। জানুন কী দেখবেন, কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকতে পারবেন।

পুজোর ছুটি মানেই অনেকের কাছে ঘোরাঘুরি। কিন্তু জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের ভিড় আর যানজটের কারণে অনেক সময় ছুটির আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। তাই যদি শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে জঙ্গল, জল আর সবুজের মাঝে দু’দিন কাটাতে চান, তা হলে এবার গন্তব্য হতে পারে বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি। সঙ্গে তালবেড়িয়া জলাধার ও সুতান জঙ্গল ঘুরে নিলে ছোট্ট ছুটিটাই হয়ে উঠতে পারে দারুণ স্মরণীয়।

ঝিলিমিলি-তালবেড়িয়ায় প্রকৃতির অন্যরকম রূপ

দক্ষিণ বাঁকুড়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত ঝিলিমিলি। চারপাশে শাল, মহুয়া, শিমুল-সহ নানা গাছের সবুজে মোড়া এই অঞ্চল শহুরে ব্যস্ততা থেকে একেবারেই আলাদা।ঝিলিমিলির কাছেই রয়েছে তালবেড়িয়া জলাধার। রানিবাঁধ থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জলাধারটি পিকনিক ও প্রকৃতি উপভোগের জন্য পরিচিত। জলাধারের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর চারপাশের ঘন সবুজ মিলে তৈরি হয় মনোরম পরিবেশ।

তালবেড়িয়ার পথে রাস্তার দু’পাশেই জঙ্গল

ঝিলিমিলি থেকে তালবেড়িয়ার দিকে যাওয়ার পথটিও এই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। রাস্তার দু’পাশে ঘন জঙ্গল, বড় বড় শাল-মহুয়া-শিমুল গাছ এবং তুলনামূলক নির্জন পরিবেশ চোখে পড়বে।তালবেড়িয়া জলাধারে পৌঁছলে সামনে খুলে যাবে বিস্তীর্ণ জলরাশি। জঙ্গলের সবুজ আর জলের নীল মিলে তৈরি হয় ছবির মতো পরিবেশ। প্রকৃতির মাঝে বসে কিছুটা সময় কাটানো কিংবা পিকনিকের জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী।

শুধু তালবেড়িয়া নয়, ঘুরে দেখুন ঝিলিমিলি-সুতান জঙ্গল

এই সফরকে আরও আকর্ষণীয় করতে তালবেড়িয়ার পাশাপাশি ঘুরে নিতে পারেন ঝিলিমিলি-সুতান জঙ্গল। শাল, পিয়াল, মহুয়া, পলাশ, শিমুল-সহ বিভিন্ন গাছপালায় সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চলে নানা ধরনের পাখি ও বন্যপ্রাণীর দেখা মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।ঝিলিমিলির ওয়াচটাওয়ার থেকেও চারপাশের জঙ্গল দেখা যায়। পাশাপাশি রয়েছে সুতান লেক। অর্থাৎ একই সফরে জঙ্গল, জলাধার, লেক এবং সবুজ প্রকৃতি—সবকিছুই উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।

কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে প্রথমে বাঁকুড়া পৌঁছতে হবে। ট্রেন অথবা সড়কপথে বাঁকুড়া যাওয়ার পর সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে রানিবাঁধ হয়ে ঝিলিমিলির দিকে যাওয়া যায়।এ ছাড়াও মুকুটমণিপুর ঘুরতে গেলে সেখান থেকেও ঝিলিমিলি-সুতান এলাকার দিকে যাওয়া সম্ভব। পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মুকুটমণিপুর থেকে ঝিলিমিলি-সুতান জঙ্গল প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে।তবে তালবেড়িয়ার দিকে যাওয়ার শেষ অংশের রাস্তা তুলনামূলক সরু এবং জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই অপরিচিত হলে দিনের আলোতেই এই পথে যাতায়াত করা বেশি সুবিধাজনক।

কোথায় থাকবেন?

শুধু একদিনের জন্য না গিয়ে দু’দিনের পরিকল্পনা করলে এই ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়তে পারে। ঝিলিমিলিতে থাকার জন্য রিমিল ইকো ট্যুরিজম-সহ বিভিন্ন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ঝিলিমিলি ও মুকুটমণিপুরের আশপাশেও একাধিক রিসর্ট ও থাকার জায়গা পাওয়া যায়।তবে পুজোর সময় পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে। তাই যাওয়ার আগে থাকার জায়গা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বুকিং করে রাখাই ভালো।

পরিবার না বন্ধু—কার সঙ্গে গেলে জমবে বেশি?

প্রকৃতির মাঝে শান্ত সময় কাটাতে চাইলে পরিবার, বন্ধু কিংবা ছোট দলের সঙ্গে এই সফর করা যায়। সকালে জঙ্গল ঘুরে দেখা, জলাধারের ধারে কিছুটা সময় কাটানো এবং সন্ধ্যার আগে থাকার জায়গায় ফিরে আসা—এমন পরিকল্পনায় দু’দিনের ভ্রমণ বেশ আরামদায়ক হতে পারে।তবে জঙ্গলে ঘোরার সময় নির্দিষ্ট পর্যটন নিয়ম মেনে চলা এবং বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়াই জরুরি।

পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি বা জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে একটু শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি ও তালবেড়িয়া হতে পারে দারুণ বিকল্প। শাল-মহুয়া-শিমুলের জঙ্গল, বিস্তীর্ণ জলাধার, লেক ও পাহাড়ঘেরা পরিবেশ মিলিয়ে দক্ষিণ বাঁকুড়ার এই অঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।

Leave a comment