সহারানপুর মসজিদ মামলায় এসডিএমের জরিমানা আদায়ের নির্দেশ বাতিল আদালতের ব্রিজেশ পাঠক

সহারানপুর মসজিদ মামলায় এসডিএমের জরিমানা আদায়ের নির্দেশ আদালত বাতিল করেছে। উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রিজেশ পাঠক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ সর্বোচ্চ এবং সরকার নিয়ম অনুযায়ী তা পালন করবে।

সহারানপুরে মসজিদ-সংক্রান্ত মামলায় উপ-জেলাশাসকের (এসডিএম) জরিমানা আদায়ের নির্দেশ আদালত বাতিল করেছে। এ বিষয়ে উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রিজেশ পাঠক বলেছেন, আদালতের নির্দেশ সর্বোচ্চ এবং সরকার নিয়ম অনুযায়ী সেই নির্দেশ পালন করবে।

দেওরিয়া সফরে থাকা ব্রিজেশ পাঠককে সহারানপুরের মসজিদ-সংক্রান্ত মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ সম্মান করে। আদালতের নির্দেশ সর্বোচ্চ এবং যে সিদ্ধান্ত এসেছে, তা নিয়ম অনুযায়ী কার্যকর করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

এই মামলায় উপ-জেলাশাসকের পক্ষ থেকে জরিমানা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা আদালত বাতিল করেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, জানতে চাওয়া হলে পাঠক বলেন, আদালতের নির্দেশ পালন করা হবে।

দেওরিয়া সফরের সময় ব্রিজেশ পাঠক সমাজবাদী পার্টি এবং দলের সভাপতি অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বের উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং ক্ষমতায় থাকার সময় দল নিজেদের পরিবারের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

পাঠক সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে বলেন, দল যখনই ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে, তখন সাধারণ মানুষের পরিবর্তে নিজেদের পরিবারের কথা ভেবেছে।

এগুলি ব্রিজেশ পাঠকের রাজনৈতিক বক্তব্য। এই বিষয়ে সমাজবাদী পার্টির পৃথক অবস্থান থাকতে পারে।

সমাজবাদী পার্টির পূর্ববর্তী শাসনকাল নিয়েও ব্রিজেশ পাঠক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সপার এজেন্ডায় কথিতভাবে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান মাফিয়া’কে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল।

উপমুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সমাজবাদী পার্টির পুরনো শাসনকালে কথিত গুন্ডাগিরি, মাফিয়া কার্যকলাপ এবং দাঙ্গার ঘটনাগুলি উত্তরপ্রদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। তাঁর দাবি, এই কারণেই মানুষ সমাজবাদী পার্টিকে আবার গ্রহণ করবে না।

এটি বিজেপির পক্ষ থেকে সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে আইনশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ও সপার মধ্যে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু।

বুলন্দশহরে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও ব্রিজেশ পাঠক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এই দাবি খারিজ করে বলেন, সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাউকে সভা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

পাঠকের দাবি, এই বিষয়ে অখিলেশ যাদব বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজবাদী পার্টির নেতারা পরিস্থিতি বোঝার পরিবর্তে ভুল কথা এবং গুজব ছড়াচ্ছেন।

উপমুখ্যমন্ত্রী সমাজবাদী পার্টির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, দুই বিরোধী দলই তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছে। অন্যদিকে, তাঁর দাবি, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিতে কাজ করছে।

পাঠক বলেন, সরকার রাজ্যের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়েও ব্রিজেশ পাঠক দাবি করেন যে রাজ্য এখন ‘রাজস্ব উদ্বৃত্ত’ হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের নীতির কারণে উন্নয়নের গতি বেড়েছে।

উপমুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্য সরকার পরিকাঠামো, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণের মতো ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তিনি উত্তরপ্রদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারগুলির তুলনা করে বিজেপি সরকারের কার্যকালকে ভালো বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকার হল রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা। পাঠক দাবি করেন, রাজ্য অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি করেছে।

আসন্ন নির্বাচন নিয়েও ব্রিজেশ পাঠক বিজেপির সম্ভাবনা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষ বিজেপির নীতি ও সরকারের কাজকে সমর্থন করছে এবং আগামী নির্বাচনে দল আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে।

তিনি বলেন, বিজেপি উন্নয়ন ও সুশাসনের ইস্যু নিয়ে মানুষের কাছে যাবে। অন্যদিকে, তিনি সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক কৌশল তুষ্টিকরণ এবং কথিত গুজবের ওপর কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগ তোলেন।

দেওরিয়া সফরের সময় ব্রিজেশ পাঠক সহারানপুর মসজিদ মামলা, বিরোধীদের রাজনীতি এবং উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নসহ একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। সহারানপুর মামলায় তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, বিচারব্যবস্থার নির্দেশ সরকারের কাছে সর্বোচ্চ এবং তা নিয়ম অনুযায়ী কার্যকর করা হবে।

এর পাশাপাশি তিনি সমাজবাদী পার্টির পূর্ববর্তী শাসনকাল, অখিলেশ যাদবের অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন।

Leave a comment