তামিলনাড়ুতে প্রধান বিরোধী দল DMK শনিবার মুখ্যমন্ত্রী C. Joseph Vijay-এর বিধানসভায় করা কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। দলটির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দলের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা-স্তম্ভ M. Karunanidhi এবং DMK সভাপতি M. K. Stalin-কে নিশানা করে গুরুতর মন্তব্য করেছেন। দলটি দুর্নীতির অভিযোগ এবং জরুরি অবস্থার সময় স্টালিনের গ্রেপ্তার নিয়ে আইনমন্ত্রী R. Nirmal Kumar-এর দাবিরও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
চেন্নাইসহ তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় DMK কর্মী ও নেতারা বিক্ষোভ দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। প্রবীণ নেতা P. K. Sekar Babu এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তিনি M. K. Stalin-এর রাজনৈতিক অবদান, সংগ্রাম, ব্যক্তিত্ব এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন।
সেকর বাবু স্টালিনকে নীতি ও মূল্যবোধ অনুসরণকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে “Mr Clean” বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, এমন একজন ‘কলঙ্কহীন’ নেতাকে বিধানসভায় TVK-নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে নিশানা করা হয়েছে এবং DMK তার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তিনি জরুরি অবস্থার সময় স্টালিনের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আইনমন্ত্রী R. Nirmal Kumar-এর দাবিরও বিরোধিতা করেন।
DMK নেতা বলেন, জরুরি অবস্থার সময় স্টালিনের আটক সংক্রান্ত আইনমন্ত্রীর দাবির বিরুদ্ধে দলটি বিধানসভায় আপত্তি জানিয়েছিল।
আইনমন্ত্রী R. Nirmal Kumar-এর দাবি, এমন কোনও সরকারি নথি নেই, যা থেকে বোঝা যায় যে জরুরি অবস্থার সময় MISA-এর অধীনে স্টালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মন্ত্রীর দাবি ছিল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর ২০-দফা কর্মসূচির বিরুদ্ধে কথিত মন্তব্যের পর স্টালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে তৎকালীন কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি অবস্থা জারির পর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে DMK এবং সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দেওয়া ভাষণ নিয়েও DMK তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ছিল এবং সেখানে দল, পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত M. Karunanidhi, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Murasoli Maran এবং DMK সভাপতি M. K. Stalin-এর রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অবদানকে কথিতভাবে খাটো করে দেখানো হয়েছে।
DMK-এর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য বিরোধী দলনেতা Udhayanidhi Stalin-কে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। দলের দাবি, বিধানসভায় এই অভিযোগগুলির বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হলেও উদয়নিধি স্টালিনকে জবাব দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সেকর বাবু DMK সরকারের মেয়াদ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের করা দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করেন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে “সিনেমার সংলাপ”-এর মতো অভিযোগ করেছেন।
DMK নেতা দাবি করেন, দলটি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের প্রতিবাদ করেছিল। তিনি বলেন, দল একটি “আহত বাঘের” মতো মাঠে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং একদিন সবকিছুর জবাব একইভাবে দেওয়া হবে।
তবে এগুলি DMK নেতার রাজনৈতিক দাবি ও অভিযোগ। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির পর সরকারের বা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের পক্ষ থেকে এই দাবির জবাবে কোনও নতুন বক্তব্যের তথ্য এই উপকরণে নেই।
৭ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় DMK-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি দলটির পূর্ববর্তী সরকারগুলির আমলে কথিত গুরুতর ও সংগঠিত দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী Sarkaria Commission-এর রিপোর্টের উল্লেখ করেন। তিনি কয়েক দশক আগে M. Karunanidhi-এর নেতৃত্বাধীন DMK সরকারের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি বিধানসভায় তোলেন এবং এই প্রসঙ্গে প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Murasoli Maran-এরও উল্লেখ করেন।
এই ভাষণের পর DMK মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাঁর বিধানসভা ভাষণে ২০২১-২৬ সালের DMK শাসনকালের সঙ্গে যুক্ত কথিত দুর্নীতির মামলাগুলিরও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, Enforcement Directorate বা ED-এর পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সরকারি নথিতে কথিত দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী M. K. Stalin এবং তাঁর তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী Udhayanidhi Stalin-এর নাম উল্লেখ করেন।
এই অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করেই DMK মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ করেছে। দলটি অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সরকার বিধানসভায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এবং DMK-এর মধ্যে এই বিরোধ তামিলনাড়ুর বিধানসভা রাজনীতিতে বাড়তে থাকা সংঘাতকে সামনে এনেছে। একদিকে বিজয় DMK-এর পূর্ববর্তী শাসনকাল এবং দলের প্রধান নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাদের প্রয়াত নেতা এবং বর্তমান নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করার অভিযোগ এনেছে।
DMK বিশেষভাবে করুণানিধির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং স্টালিনের নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলীয় নেতারা বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক স্তরে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বিধানসভায় তোলা দুর্নীতি এবং জরুরি অবস্থার সময় স্টালিনের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রশ্ন এই বিতর্কে আরও একটি রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত করেছে।
বর্তমানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ এবং জরুরি অবস্থার সময় স্টালিনের আটকের বিষয়ে পৃথক রাজনৈতিক দাবি করা হচ্ছে। এই দাবিগুলির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান সম্পর্কে এই উপকরণে কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।











