গৌতম আদানি ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি মামলা ‘with prejudice’ শর্তে খারিজ

ডারেল আদালত ‘with prejudice’ শর্তে খারিজ করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়ের হওয়া অভিযোগের স্থায়ী খারিজের অর্থ একই ভিত্তিতে মামলাটি পুনরায় আনা যাবে না। তবে আদালত অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত দেয়নি এবং SEC-এর পৃথক দেওয়ানি মামলা এর আওতায় পড়ে না।

অদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি, তাঁর ভাতিজা সাগর আদানি এবং আদানি গ্রিন এনার্জির সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা বিনীত জৈনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি মামলা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ‘with prejudice’ শর্তে খারিজ করেছে। এর ফলে একই ভিত্তিতে বর্তমান অভিযোগটি পুনরায় ফৌজদারি কার্যক্রমের জন্য আনা যাবে না।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করা হয়েছে। আইনগতভাবে ‘with prejudice’ বলতে বোঝায়, একই ভিত্তিতে বর্তমান ফৌজদারি অভিযোগ ভবিষ্যতে পুনরায় দায়ের করা যাবে না।

তবে এই আদেশকে আদালতের দেওয়া ‘ক্লিন চিট’ হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না। আদালতে এই মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হয়ে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। মার্কিন জেলা আদালতের নথিতে মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজের আদেশ রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলাটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন প্রসিকিউটরদের দায়ের করা অভিযোগপত্রের পর আলোচনায় আসে। মার্কিন বিচার বিভাগ গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং বিনীত জৈনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, ওয়্যার জালিয়াতি এবং অন্যান্য কথিত অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। আদানি পক্ষ ধারাবাহিকভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিল।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ ছিল, ভারতীয় জ্বালানি খাতের প্রকল্পগুলোর জন্য কথিত ঘুষের পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগপত্রে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডলারভিত্তিক অর্থায়ন এবং বন্ড লেনদেনেরও উল্লেখ ছিল।

তবে আদানি গ্রিন এনার্জি তখন স্পষ্ট করেছিল যে গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে মার্কিন Foreign Corrupt Practices Act (FCPA) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়নি। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ব্যাখ্যাকে কোম্পানিটি ভুল বলে উল্লেখ করেছিল।

মামলাটি প্রায় দুই বছর ধরে মার্কিন আদালতে আলোচনায় ছিল। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগটি এখন শেষ হয়েছে।

এর ফলে গৌতম আদানি এবং মামলায় নাম থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই মামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি কার্যক্রমের পথ বন্ধ হয়েছে।

আদানি-সংক্রান্ত এই ফৌজদারি মামলার সঙ্গে U.S. Securities and Exchange Commission (SEC)-এর পৃথক দেওয়ানি মামলাকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ হওয়ার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে আদানিকে ঘিরে সব আইনি মামলা একসঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

SEC-এর পদক্ষেপ একটি পৃথক দেওয়ানি প্রক্রিয়া, যার নিজস্ব আইনি ভিত্তি ও শর্ত রয়েছে। ফলে ফৌজদারি মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হিসেবে দেখা যায় না।

 

Leave a comment