মায়ের মৃত্যুর শোক সামলাতে পারেননি গোবিন্দা! নর্মদায় নেমে নিয়েছিলেন বড় সিদ্ধান্ত, সন্তানদের কথা ভেবেই বদলে গেল জীবন

Govinda: মা নির্মলা দেবীর মৃত্যুর পর গভীর শোকে ভেঙে পড়েছিলেন গোবিন্দা। নর্মদা নদীর সেই কঠিন সময়, সাধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সন্তানদের কথা ভেবে জীবনে ফেরার কাহিনি জানুন।

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দার জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি এসেছে গভীর ব্যক্তিগত শোকও। ১৯৯৬ সালে মায়ের মৃত্যু তাঁকে এমন এক মানসিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল, যখন তাঁর মনে হয়েছিল জীবনে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সম্প্রতি এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে গোবিন্দা জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে ফের দেখা হবে—এই বিশ্বাসে তিনি নর্মদা নদীর গভীরে নেমে গিয়েছিলেন। পরে এক সাধুর হস্তক্ষেপ।

মায়ের সঙ্গে ছিল গভীর সম্পর্ক

গোবিন্দার মা নির্মলা দেবী ছিলেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রী। ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।মায়ের সঙ্গে গোবিন্দার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অভিনেতা বিভিন্ন সময়ে তাঁর জীবনে মায়ের আধ্যাত্মিক প্রভাবের কথাও জানিয়েছেন। ফলে তাঁর মৃত্যুর ধাক্কা গোবিন্দার কাছে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল।

‘সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল’, স্মৃতিচারণে অভিনেতা

মায়ের মৃত্যুর পরের সময়ের কথা বলতে গিয়ে গোবিন্দা জানান, তিনি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল যেন জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে।এই গভীর শোকই তাঁকে এমন একটি সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়, যার কথা বহু বছর পর প্রকাশ্যে বললেন অভিনেতা।

নর্মদার জলে নেমেছিলেন গোবিন্দা

সাক্ষাৎকারে গোবিন্দা জানান, একসময় তিনি নর্মদা নদীতে ছিলেন। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, নদীর আরও গভীরে গেলে হয়তো মায়ের সঙ্গে তাঁর আবার দেখা হতে পারে।সেই ভাবনা থেকেই তিনি জলের আরও গভীরে নেমে যান। বিষয়টি আত্মহানির প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল কি না জানতে চাওয়া হলে গোবিন্দা জানান, এক অর্থে সেটি তেমনই ছিল।তবে নিজের সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি শুধুমাত্র আত্মহানির একটি ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, মানুষের জীবন নিয়ে তাঁর আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা।

নদীর ধারে এক সাধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ

নর্মদায় থাকার সময় গোবিন্দার সঙ্গে এক সাধুর দেখা হয় বলে জানান তিনি। অভিনেতার স্মৃতিতে ওই ব্যক্তির নাম ছিল রাম কুন্ডল।গোবিন্দার কথায়, ওই ব্যক্তি তাঁকে ডাকেন এবং নদী থেকে উঠে আসতে সাহায্য করেন। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এই ঘটনাটিই অভিনেতার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সন্তানদের কথা মনে পড়েছিল

সেই কঠিন সময়ে গোবিন্দাকে উপলব্ধি করানো হয়েছিল যে তাঁর জীবনে এখনও দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর সন্তানদের জন্য তাঁকে বেঁচে থাকতে হবে—এই ভাবনাই তাঁকে নতুন করে জীবনের দিকে তাকাতে সাহায্য করে।এরপর ধীরে ধীরে নিজের জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। সন্তানদের প্রতি দায়িত্ববোধ তাঁর সেই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‘জীবন শেষ হয় না’, গোবিন্দার দর্শন

নিজের সেই অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গোবিন্দা জানিয়েছেন, জীবনকে তিনি শুধুমাত্র শুরু ও শেষের মধ্যে দেখেন না। তাঁর বিশ্বাস, জীবনের রূপ পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু জীবনকে একেবারে শেষ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখা উচিত নয়।মায়ের মৃত্যু তাঁকে যে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই স্মৃতি আজও তাঁর মনে রয়েছে। তবে সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে তিনি নিজের পরিবার ও সন্তানদের দায়িত্বকে সামনে রেখে জীবনে এগিয়ে যান।

১৯৯৬ সালে মা নির্মলা দেবীর মৃত্যুর পর গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা গোবিন্দা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মায়ের সঙ্গে ফের দেখা হবে—এই বিশ্বাসে নর্মদা নদীতে আরও গভীরে নেমে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় এক সাধুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং সন্তানদের কথা তাঁকে জীবনের দিকে ফেরায় বলে জানান অভিনেতা।

Leave a comment