অম্বুবাচী উপলক্ষে সারা দেশের বহু ভক্ত বিশেষ নিয়ম-নীতি মেনে চলেন। বিশেষ করে মা কামাক্ষ্যা মন্দিরে এই সময় দেবী দর্শন বন্ধ থাকে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর কয়েকটি দিন কিছু নির্দিষ্ট কাজ না করাই শুভ বলে মনে করা হয়। জেনে নিন কোন কাজগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং কোন আচার পালন করলে শুভ ফল মিলতে পারে।
অম্বুবাচীতে কোন কাজগুলি এড়িয়ে চলবেন?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর সময় ভূমি খনন, চাষাবাদ বা বৃক্ষরোপণ করা উচিত নয়। এই সময় পৃথিবীকে ঋতুমতী রূপে কল্পনা করা হয়, তাই মাটির সঙ্গে সম্পর্কিত কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।এছাড়া গৃহপ্রবেশ, বিবাহ, অন্নপ্রাশন, নতুন ব্যবসা শুরু বা অন্য কোনও শুভ অনুষ্ঠানও এই সময় না করাই শ্রেয় বলে মনে করা হয়।
পুজোয় কী নিয়ম মানবেন?
অম্বুবাচীর সময় বিশেষ পূজা বা যজ্ঞের আয়োজন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে নিত্যপূজা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে না। ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে ভক্তিভরে প্রণাম করাই যথেষ্ট বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।যাঁদের বাড়িতে কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, চণ্ডী, শীতলা বা অন্য কোনও শক্তিরূপের মূর্তি বা পট রয়েছে, তাঁরা এই সময় লাল কাপড় দিয়ে তা ঢেকে রাখেন। অম্বুবাচী শেষ হওয়ার পর দেবীকে স্নান করিয়ে পুনরায় নিয়মিত পূজা শুরু করা হয়।
কোন আচার পালন করলে শুভ বলে মনে করা হয়?
গুরু প্রদত্ত ইষ্টমন্ত্র জপ করা শুভ বলে মনে করা হয়।
গুরুপূজা করা যায়।
মনোযোগ সহকারে ধ্যান ও প্রার্থনা করলে মানসিক শান্তি লাভ হয় বলে বিশ্বাস।
অম্বুবাচী শেষে দেবীকে আম ও দুধ নিবেদন করার রীতি বহু স্থানে প্রচলিত।
কামাক্ষ্যা মন্দিরের বিশেষ তাৎপর্য
অসমের কামাক্ষ্যা মন্দিরে অম্বুবাচীর সময় কয়েকদিন মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। এই সময় দেবীর ঋতুকাল চলছে—এমন ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এই প্রথা প্রচলিত। অম্বুবাচী শেষ হলে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় দর্শনের জন্য মন্দির খুলে দেওয়া হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক নয়
অম্বুবাচী সংক্রান্ত এই সমস্ত নিয়ম, আচার ও বিশ্বাস মূলত হিন্দু ধর্মীয় রীতি ও লোকাচারের অংশ। এগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী এগুলি পালন করা বা না করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
অম্বুবাচী হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আধ্যাত্মিক সময়। শাস্ত্র মতে, এই সময়ে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর দিনগুলিতে শুভ কাজ, ভূমি খনন বা বৃক্ষরোপণ এড়িয়ে চললে জীবনে ইতিবাচক প্রভাব বজায় থাকে।













