দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে নদিয়ার শান্তিপুর ও পূর্ব বর্ধমানের কালনার মানুষের। এতদিন নৌকায় নদী পারাপার কিংবা প্রায় ৫০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াতের যে দুর্ভোগ ছিল, তা অনেকটাই কমতে চলেছে। রাজ্য বাজেটে ভাগীরথী নদীর উপর প্রায় ১১০০ কোটি টাকার সেতু নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে দুই জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে।
![]()
১১০০ কোটি টাকার সেতু প্রকল্পে বাজেটের বড় ঘোষণা
রাজ্য বাজেটে কালনা-শান্তিপুর সংযোগকারী বহুল প্রতীক্ষিত সেতু নির্মাণের জন্য আনুমানিক ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২.১ কিলোমিটার। অ্যাপ্রোচ রোড-সহ গোটা প্রকল্পের বিস্তার হবে প্রায় ১৪ কিলোমিটার। ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণ এবং প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শেষ হবে নৌকা নির্ভরতা, কমবে ৫০ কিলোমিটার ঘুরপথের যন্ত্রণা
নতুন সেতু চালু হলে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে। শুধু যাতায়াতই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
![]()
সেতুর পাশাপাশি জলাশয় সংস্কারের মাস্টারপ্ল্যান
বাজেটে শুধু সেতু নির্মাণই নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। গুপিয়ার বিল, বাগাইদার বিল এবং হরিপুর বিল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংস্কারের পর এই জলাশয়গুলিকে আধুনিক মৎস্যচাষের উপযোগী করে তোলা হবে, যাতে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা সারা বছর আয়ের সুযোগ পান। প্রশাসনের মতে, এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
![]()
স্থানীয়দের আশায় নতুন আলো
এই প্রকল্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, বহু বছরের দাবি অবশেষে বাস্তবের পথে এগোচ্ছে। সেতু নির্মাণের পাশাপাশি নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দুই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
![]()
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানবাসীর জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ভাগীরথী নদীর উপর কালনা-শান্তিপুর সংযোগকারী প্রায় ১১০০ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ প্রকল্পে মিলেছে সবুজ সংকেত। পাশাপাশি গুপিয়ার বিল, বাগাইদার বিল এবং হরিপুর বিল সংস্কারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে মৎস্যচাষের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আয় বাড়ানো যায়।











