বাঘের আবাসভূমি সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে প্রতি বছরই জীবন বাজি রেখে মধু সংগ্রহে যান মউলেরা। তবে এবারের মৌসুম তাঁদের জন্য নিয়ে এল এক বিরল সুখবর। শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণই নয়, কোনও দুর্ঘটনা ছাড়াই ৪৯টি দলের প্রত্যেক সদস্য নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন। পর্যাপ্ত মধু সংগ্রহের পাশাপাশি বন দফতরের কাছ থেকে ভালো দাম পাওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু মউলে পরিবারে।
![]()
১৫ মেট্রিক টনের লক্ষ্য পূরণ, সফল সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প
চলতি মৌসুমে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ১৫ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। বন দফতর ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা সমস্ত মধু কিনে নেওয়ায় মউলেদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে প্রাপ্য অর্থ। ফলে দীর্ঘদিন পর মুখে হাসি ফিরেছে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির।
৪২৮ জন মউলে, ৪৯টি দল—নিরাপদ অভিযানে স্বস্তি
গত ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছিল এবারের মধু সংগ্রহ অভিযান। মোট ৪২৮ জন মউলে ৪৯টি দলে ভাগ হয়ে সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। প্রতিবছর বাঘ, কুমির কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতি।এবার সজনেখালি রেঞ্জ থেকে ১৬টি এবং বসিরহাট রেঞ্জ থেকে ৩৩টি দল মধু সংগ্রহে অংশ নেয়। সংগ্রহ করা মধুর গুণমান বিচার করে গ্রেড-এ এবং গ্রেড-বি হিসেবে ভাগ করা হয়। গ্রেড-এ মধুর জন্য কেজি প্রতি ২৭৫ টাকা এবং গ্রেড-বি মধুর জন্য ২৫০ টাকা করে মূল্য দিয়েছে বন দফতর। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ মউলেদের হাতে পৌঁছে যাওয়ায় তাঁদের আর্থিক স্বস্তিও বেড়েছে।
![]()
জীবন বিমার সুবিধা মিললেও ব্যবহার করতে হয়নি
মউলেদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবছর বিশেষ জীবন বিমার ব্যবস্থাও করেছিল বন দফতর। তবে সৌভাগ্যবশত কোনও দুর্ঘটনা না ঘটায় সেই বিমার প্রয়োজন পড়েনি। মধুর পরিমাণ যেমন সন্তোষজনক, তেমনই গুণগত মানও ভালো হওয়ায় বন দফতর এবং মউলে—উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট।
সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা মউলেদের
![]()
মউলেদের দাবি, বছরে এই কয়েক মাসের মধু সংগ্রহ তাঁদের সংসারের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। ভবিষ্যতে সরকার যদি তাঁদের জন্য আরও আর্থিক সহায়তা, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করে, তাহলে এই ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে আরও বেশি মানুষ যুক্ত হতে পারবেন এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণও সহজ হবে।
![]()
চলতি মরসুমে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় ১৫ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে পূরণ হয়েছে। ৪২৮ জন মউলে ৪৯টি দলে বিভক্ত হয়ে সজনেখালি ও বসিরহাট রেঞ্জ থেকে নিরাপদে মধু সংগ্রহ করে ফিরেছেন। বন দফতর নির্ধারিত দামে সমস্ত মধু কিনে নেওয়ায় আর্থিক স্বস্তি ফিরেছে মউলেদের পরিবারে।












