স্বাধীনতা দিবসের আগেই তেরঙ্গার রঙে সেজে উঠল এই জলাভূমি! পরিযায়ী পাখি থেকে বোটিং—উত্তর ২৪ পরগনার অচেনা ডেস্টিনেশন মাতাচ্ছে পর্যটকদের

উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার বর্তির বিল কেন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র? ৪৫০ একর জলাভূমি, পরিযায়ী পাখি, বোটিং, ওয়াচ টাওয়ার ও অ্যাকোয়াটিক বায়ো-ডাইভারসিটি পার্কের পরিকল্পনা জানুন।

স্বাধীনতা দিবসের আবহে যখন শহরজুড়ে তেরঙ্গার সাজ, তখন প্রকৃতির কোলে অন্যরকম রূপ নিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার বর্তির বিল। প্রায় সাড়ে চারশো একর বিস্তৃত জলাভূমি, নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা আর শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে ব্যস্ত জীবন থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য দূরে সরে যেতে চাইলে এই জায়গা হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

কোথায় রয়েছে বর্তির বিল?

উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা এলাকায় বেরাবেড়িয়া ও তারাবেড়িয়া পঞ্চায়েতের মাঝামাঝি বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে রয়েছে বর্তির বিল। প্রায় ৪৫০ একর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই জলাভূমি সারা বছরই প্রকৃতিপ্রেমীদের টানে।শীতের সময় পরিযায়ী পাখির আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় তখন পর্যটকের ভিড়ও বেশি হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, অন্য মরশুমেও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মেলে।

শুধু শীত নয়, বসন্তেও দেখা মেলে নানা পাখির

বর্তির বিলের অন্যতম আকর্ষণ এখানকার পাখির বৈচিত্র্য। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, লকডাউনের পর থেকে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এই এলাকায় দেখা যাচ্ছে।রুবিথ্রোট, ব্লু-থ্রোট, পাইড হ্যারিয়ার, সাইট্রিন ওয়াগটেল, ইউরেশিয়ান হুপো এবং বিভিন্ন ধরনের বান্টিংসের দেখা মেলে বলে জানা গিয়েছে।বসন্তকালেও কপারস্মিথ বারবেট, ব্লু-থ্রোটেড বারবেট, লাইনটেড বারবেট ও অলিভ-ব্যাকড পিপিটের মতো পাখি দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।

পর্যটকদের জন্য কী কী রয়েছে?

বর্তির বিলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রশাসনের তরফে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যা রয়েছে—

বোটিং পরিষেবা

পিকনিক স্পট

ওয়াচ টাওয়ার

পাখি দেখার সুযোগ

বিস্তীর্ণ জলাভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের সুযোগ

ফলে শুধু ঘুরতে আসা নয়, প্রকৃতির মাঝে ছবি তোলা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেও জায়গাটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তৈরি হতে পারে ‘অ্যাকোয়াটিক বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক’

বর্তির বিলকে ঘিরে আরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। প্রায় ৪৫০ একর জলাভূমির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার পাশাপাশি পর্যটনের পরিকাঠামো উন্নত করার কথা ভাবা হচ্ছে।প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখানে ‘অ্যাকোয়াটিক বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বর্তির বিল উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যও বড় আকর্ষণ

বর্তির বিল শুধু পাখির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে একাধিক প্রজাতির মাছও রয়েছে। ফলে জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেই পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।প্রকৃতি ও পর্যটনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

চেনা দিঘা-দার্জিলিংয়ের বাইরে প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার বর্তির বিল হতে পারে দারুণ ঠিকানা। স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতীয় পতাকার রঙে সেজে উঠেছে এই বিস্তীর্ণ জলাভূমি। পরিযায়ী পাখি, বোটিং, ওয়াচ টাওয়ার ও পিকনিক স্পট—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই জায়গা।

Leave a comment