আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অর্থের অভাবে খেলতে পারেননি সায়রা, ঘুষের অভিযোগ খারিজ সরকারের

সিএনআই গার্লস স্কুলের তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় সায়রা রোমানিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হলেও অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারায় অংশ নিতে পারেননি। উত্তরাখণ্ড সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি কোনোয় অংশ নেওয়ার খরচের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অর্থের অভাবে খেলতে পারেননি সায়রা, ঘুষের অভিযোগ খারিজ সরকারের
Photo Credit / Attribution: Google

দেহরাদূনে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির বাসভবনে আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানে সিএনআই গার্লস স্কুলের তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় সায়রা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়ার পরও অর্থের অভাবে অংশ নিতে না পারার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে সায়রা জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রায় ১.৫০ লাখ টাকা জোগাড় করা তার সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সায়রার বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মুতে অনুষ্ঠিত জাতীয় তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতার পর রোমানিয়ায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য তার নির্বাচন হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাতায়াতসহ মোট খরচ প্রায় ৩.৭০ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১.৭০ লাখ টাকা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা ছিল এবং প্রায় ১.৫০ থেকে ১.৬০ লাখ টাকা সায়রাকে নিজেকেই জোগাড় করতে হতো। অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারায় তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি।

মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের কথা বলার সময় সায়রা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতার জন্য তার নির্বাচন হয়েছিল এবং তার কাছে ১.৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল, যার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় খেলতে পারেননি। সায়রার বক্তব্য শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী ধামি কর্মকর্তাদের তার স্কুল এবং তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন।

ভিডিও সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে আলোচনা শুরু হয়। পরে উত্তরাখণ্ড সরকার স্পষ্ট করে জানায়, এটি কোনো সরকারি কর্মকর্তার ঘুষ চাওয়ার ঘটনা নয়। সরকারের মতে, সায়রা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান Taekwondo Council of India-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য তার নির্বাচন হয়েছিল।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মোট খরচ প্রায় ৩.৭০ লাখ টাকা ছিল। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রায় ১.৭০ লাখ টাকা বহন করার কথা ছিল এবং বাকি অর্থ সায়রাকে নিজেকেই জোগাড় করতে হতো। সরকারের বক্তব্য, এটি কোনো সরকারি চাকরি, সরকারি নির্বাচন প্রক্রিয়া বা সরকারি কর্মকর্তার টাকা চাওয়ার ঘটনা ছিল না; বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খরচের বিষয় ছিল।

পরে সায়রা নিজেও বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তিনি পুরো তথ্য তুলে ধরতে পারেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি জম্মুতে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং এরপর রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হন। প্রতিযোগিতায় যাওয়ার প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারায় তিনি সেখানে খেলতে পারেননি।

এটিও সামনে আসে যে সায়রা এ বিষয়ে নিজের স্কুলকেও কোনো তথ্য দেননি। ফলে প্রাথমিক কথোপকথন এবং পরে প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই কারণেই সরকার বিষয়টিকে সরকারি স্তরে ঘুষ চাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করাকে ভুল বলে জানিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ছাত্রীর প্রতিভা এবং তার সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তবে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। সরকারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু মানুষ রাজনৈতিক লাভের জন্য বিষয়টিকে ঘুষ চাওয়ার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কর্মকর্তারা সায়রার স্কুল, প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছিল, মোট খরচের বিস্তারিত কী ছিল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কতটা সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, তা স্পষ্ট হবে।

পুরো ঘটনাটি খেলোয়াড়দের সামনে থাকা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও সামনে এনেছে। জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যাতায়াত, প্রশিক্ষণ, প্রবেশ, থাকা এবং অন্যান্য খরচের ব্যবস্থা করতে না পারায় সায়রা সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি।

স্কুলস্তরের খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খরচ পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে অনেক খেলোয়াড় বড় মঞ্চে পৌঁছাতে পারেন না। সায়রার ঘটনাতেও আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার সুযোগ অর্থের কারণে হাতছাড়া হয়েছে।

প্রাথমিক অভিযোগকে সরাসরি ঘুষের ঘটনা হিসেবে দেখার আগে পুরো ঘটনাক্রম বোঝার বিষয়টিও সামনে এসেছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সায়রা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে অর্থের প্রয়োজনের কথা বলেছিলেন। পরে সরকার এবং সায়রা দুজনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, প্রয়োজনীয় প্রায় ১.৫০ লাখ টাকা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খরচের ব্যবস্থা করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, কোনো সরকারি কর্মকর্তার ঘুষ চাওয়ার সঙ্গে নয়।

সায়রার আবেগপ্রবণ বক্তব্যের পর মুখ্যমন্ত্রী কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ উপলব্ধ তথ্য ও নথির ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

সরকার বর্তমানে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগকে ভুল বলে জানিয়েছে এবং বিষয়টিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খরচের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অন্যদিকে, সায়রাও নিজের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে পুরো বিষয়টি তুলে ধরতে পারেননি। কর্মকর্তাদের তদন্ত এবং উপলব্ধ নথির ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a comment