Amitabh Bachchan: এত লম্বা নায়ককে নায়িকা কে নেবে? অমিতাভকে নিয়ে এমন কথাই শুনতে হয়েছিল, পরে এই উচ্চতাই হয়ে উঠল তাঁর পরিচয়!

অমিতাভ বচ্চনের কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলি ছিল কঠিন। উচ্চতার জন্য নায়িকারা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাইতেন না—KBC-তে সেই পুরনো দিনের সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন বিগ বি।

আজ তাঁর নামই যথেষ্ট—অমিতাভ বচ্চন। আট দশক পেরিয়েও অভিনয় ও সঞ্চালনায় সক্রিয় এই কিংবদন্তির কেরিয়ার এখন কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন বলিউডে কাজ পাওয়ার জন্য তাঁকেও প্রযোজকদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়েছিল। তাঁর সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর অস্বাভাবিক লম্বা উচ্চতা। এমনকি তাঁকে বলা হয়েছিল, এত লম্বা নায়কের সঙ্গে কোনও অভিনেত্রীই কাজ করতে চাইবেন না! 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮'-এর মঞ্চে সেই পুরনো দিনের অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিয়েছেন বিগ বি।

অমিতাভকে নিয়ে কেন আপত্তি ছিল?

কেরিয়ারের শুরুর দিকে অমিতাভ বচ্চনকে তাঁর উচ্চতা এবং চেহারা নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছিল। প্রযোজকদের একাংশের আশঙ্কা ছিল, তাঁর লম্বা চেহারার সঙ্গে পর্দায় নায়িকাদের জুটি ঠিক মানাবে না।অমিতাভের কথায়, তাঁকে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল যে তিনি এতটাই লম্বা যে কোনও অভিনেত্রী তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাইবেন না। অর্থাৎ আজ যে উচ্চতা তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, একসময় সেটিই হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর কেরিয়ারের বাধা।

মুখ ছোট দেখায়—এমন কথাও শুনেছিলেন বিগ বি

শুধু উচ্চতাই নয়, তাঁর মুখ নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তাঁর শরীরের তুলনায় মুখ তুলনামূলক ছোট দেখায়।এই সমস্যা কাটাতে অমিতাভ নিজের চেহারায় একটি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। তিনি চুল কান পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন, যাতে মুখ কিছুটা বড় ও ভরাট দেখায়।মজার বিষয় হল, পরবর্তীকালে সেই লম্বা চুলই অমিতাভ বচ্চনের স্টাইল ও ব্যক্তিত্বের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। অর্থাৎ যে বিষয় নিয়ে একসময় তাঁকে সমালোচনা শুনতে হয়েছিল, সেটিই পরে তাঁর লুকের অংশ হয়ে যায়।

প্রথম ছবিতেই বড় সাফল্য আসেনি

অমিতাভ বচ্চনের চলচ্চিত্রযাত্রার শুরু হয়েছিল ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের 'ভুবন সোম' ছবিতে কথক হিসেবে। এরপর খাজা আহমেদ আব্বাসের 'সাত হিন্দুস্তানি' ছবির মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।কিন্তু প্রথম ছবিই তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়নি। 'সাত হিন্দুস্তানি' বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ফলে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে তাঁকে আরও বেশ কিছু বছর অপেক্ষা করতে হয়।

'জঞ্জির' বদলে দিল পুরো কেরিয়ার

অমিতাভের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ১৯৭৩ সালের 'জঞ্জির'। সেই সময় হিন্দি সিনেমায় রোমান্টিক নায়কদের দাপট ছিল। তার মাঝেই অমিতাভ ইন্সপেক্টর বিজয়ের চরিত্রে হাজির হন।তাঁর গম্ভীর ব্যক্তিত্ব, শক্তিশালী অভিনয় এবং পর্দায় আলাদা উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়। 'জঞ্জির'-এর সাফল্যের পরই অমিতাভ বচ্চনের পরিচিতি বদলে যায়। তিনি হয়ে ওঠেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় 'অ্যাংরি ইয়ং ম্যান'।

এরপর একের পর এক ব্লকবাস্টার

'জঞ্জির'-এর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি অমিতাভকে। একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে নিজের জায়গা আরও শক্ত করেন তিনি।'দিওয়ার', 'শোলে', 'ত্রিশুল', 'ডন', 'মুকাদ্দার কা সিকান্দার', 'কালা পাথর'-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে বলিউডের শীর্ষ তারকাদের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে দেয়।১৯৭০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত অমিতাভের জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাঁর নামই হয়ে উঠেছিল বক্স অফিসের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

আজ অমিতাভ বচ্চন বলিউডের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। নিজের উচ্চতা ও চেহারা নিয়ে প্রযোজকদের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি বলা হয়েছিল, এত লম্বা নায়কের সঙ্গে কোনও অভিনেত্রী কাজ করতে চাইবেন না। 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮'-এর মঞ্চে নিজের সেই সংগ্রামের দিনের কথা জানিয়েছেন বিগ বি।

Leave a comment