Amudi Fish Cleaning Tips: নরম-পিচ্ছিল আমোদি মাছ কাটতে গিয়ে হাত ফসকে যাচ্ছে? এই কৌশলে কেজি কেজি মাছ পরিষ্কার হবে ঝটপট

Amudi Fish Cleaning Tips: নরম ও পিচ্ছিল আমোদি মাছ কাটতে সমস্যা? কাঁচি, নুন, ঝুড়ি ও সহজ কৌশলে কীভাবে কেজি কেজি মাছ দ্রুত পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন।

Amudi Fish Cleaning Tips: চুনো মাছের মধ্যে আমোদি অনেকেরই পছন্দের। রান্না হলে স্বাদ দুর্দান্ত, কিন্তু বাড়িতে পরিষ্কার করার সময়ই যত বিপত্তি। মাছ এতটাই নরম ও পিচ্ছিল যে ধরতে গেলেই হাত ফসকে যায়, আবার বেশি চাপ দিলেই মাছ ভেঙে যেতে পারে। বাজার থেকে এই ধরনের ছোট মাছ সাধারণত পরিষ্কার করে দেওয়া হয় না। তাই বাড়িতেই যদি কেজি কেজি আমোদি মাছ কাটতে হয়, তাহলে জেনে রাখুন কয়েকটি সহজ কৌশল।

প্রথমেই পাখনা, লেজ ও মাথা পরিষ্কার করুন

আমোদি মাছ পরিষ্কার করার সময় ধারালো বঁটি বা ছুরি দিয়ে শুরু না করে কাঁচি ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে মাছের পাখনা, লেজ, মাথা ও কানকো প্রয়োজন অনুযায়ী কেটে নিন।মাছের মাথা পছন্দ হলে অবশ্যই রেখে দিতে পারেন। আমোদি মাছের মাথা ভেজে খাওয়ার চলও রয়েছে।ছোট মাছের ক্ষেত্রে কাঁচি ব্যবহার করলে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকে এবং দ্রুত কাজ করা যায়। তবে যেকোনও ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় আঙুল থেকে দূরে রেখে সাবধানে কাটতে হবে।

মাছ যেন হাত থেকে পিছলে না যায়

আমোদি পরিষ্কার করার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর পিচ্ছিল গা। মাছ ধরার সময় বারবার হাত থেকে ফসকে গেলে কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়।এক্ষেত্রে হাতে সামান্য শুকনো ময়দা বা পরিষ্কার শুকনো ছাই নিয়ে ঘষে নিতে পারেন। এতে হাতের গ্রিপ কিছুটা বাড়তে পারে। কাঁচা সর্ষের তেল ব্যবহারের কথাও প্রচলিত রয়েছে, তবে তেল লাগালে হাত আরও পিচ্ছিল হতে পারে—তাই নিরাপদভাবে কাজ করার জন্য শুকনো ময়দা বা পরিষ্কার গ্রিপযুক্ত পদ্ধতিই সুবিধাজনক।

শাক ধোয়ার ঝুড়িই হতে পারে কাজে

একসঙ্গে অনেক আমোদি মাছ পরিষ্কার করতে হলে সাধারণ একটি শাক ধোয়ার ঝুড়ি কাজে লাগাতে পারেন।প্রথমে ঝুড়ির মধ্যে মাছগুলি রাখুন। নিচে একটি বড় বাটি বা পাত্র রাখুন। এরপর জল দিয়ে মাছগুলি খুব হালকা হাতে নাড়াচাড়া করুন এবং প্রয়োজনমতো জল পাল্টান।মাছের গায়ে থাকা আলগা আঁশ ও ময়লা ঝুড়ির ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে নিচের পাত্রে জমতে পারে। তবে আমোদি যেহেতু খুব নরম, তাই জোরে ঘষাঘষি করা একেবারেই ঠিক নয়। তাতে মাছের দেহ ভেঙে যেতে পারে।

নুনে কমবে পিচ্ছিল ভাব

মাছ পরিষ্কারের আগে অল্প নুন ব্যবহার করেও পিচ্ছিলভাব কিছুটা কমানোর চেষ্টা করতে পারেন।ঝুড়িতে রাখা মাছের উপর সামান্য নুন ছড়িয়ে খুব আলতো হাতে নাড়াচাড়া করুন। এরপর পেটের অংশে প্রয়োজনমতো সামান্য চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করে নিন।এখানেও অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। নরম মাছ হওয়ায় জোরে চেপে ধরলে দেহ ভেঙে যেতে পারে।

আঁশ তুলতে ছুরিই একমাত্র উপায় নয়

আঁশ পরিষ্কার করার জন্য ছোট ছুরি ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় হাত কেটে যাওয়ার ভয় থাকে। তার বদলে স্টিলের চামচ বা উপযুক্ত ধাতব পাত্রের ধার ব্যবহার করা যেতে পারে।মাছের লেজের দিকটি শক্ত করে ধরে মাথার দিকে আলতোভাবে ঘষলে আঁশ উঠতে সুবিধা হতে পারে। এতে আঁশ চারদিকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনাও কমে।তবে কাচের ধারালো প্রান্ত ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। হাত ফসকে গেলে কেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তার দিক থেকে ভোঁতা-ধারযুক্ত, পরিষ্কার স্টিলের চামচ বা মাছ পরিষ্কারের উপযোগী স্কেলার ব্যবহার করাই ভালো।

শেষে ভালো করে ধুয়ে নিন

আঁশ ও নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার হয়ে গেলে ঠান্ডা পরিষ্কার জলে মাছ ২–৩ বার ধুয়ে নিন। প্রতিবার জল পাল্টে নিলে মাছের গায়ে থাকা ময়লা ও অবশিষ্ট আঁশ ভালোভাবে সরে যেতে পারে।আঁশটে গন্ধ কমাতে চাইলে সামান্য নুন ও লেবুর রস মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে আবার পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে পারেন। এরপর জল ঝরিয়ে মাছ রান্নার জন্য প্রস্তুত করুন।

এক নজরে আমোদি মাছ পরিষ্কারের কৌশল

ছোট মাছ কাটতে কাঁচি ব্যবহার করতে পারেন।

পিচ্ছিল মাছ ধরার আগে হাতে সামান্য শুকনো ময়দা ব্যবহার করলে গ্রিপ বাড়তে পারে।

অনেক মাছ একসঙ্গে পরিষ্কারে শাক ধোয়ার ঝুড়ি কাজে লাগতে পারে।

নরম মাছ হওয়ায় জোরে ঘষবেন না।

অল্প নুন দিয়ে পিচ্ছিলভাব কমানোর চেষ্টা করা যায়।

আঁশ তোলার জন্য স্টিলের চামচ বা মাছ পরিষ্কারের স্কেলার ব্যবহার করতে পারেন।

শেষে ২–৩ বার পরিষ্কার জলে মাছ ধুয়ে নিন।

লেবু-নুন ব্যবহার করলে পরে অবশ্যই ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

আমোদি মাছ সুস্বাদু হলেও অত্যন্ত নরম ও পিচ্ছিল হওয়ায় পরিষ্কার করতে বেশ ঝামেলা হয়। মাছ হাত থেকে পিছলে যাওয়া বা কাটার সময় ভেঙে যাওয়ার সমস্যা এড়াতে ব্যবহার করতে পারেন কাঁচি, শুকনো ময়দা, নুন এবং শাক ধোয়ার ঝুড়ির মতো সহজ কিছু জিনিস। সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে অল্প সময়েই অনেকটা আমোদি মাছ পরিষ্কার করা সহজ হতে পারে।

Leave a comment