নয়াদিল্লির আয়া নগর এলাকায় ৩০ বছর বয়সি জিম ট্রেনার বিজয় কুমারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দুইটি বাইকে চারজন হামলাকারী এসে জিমের বাইরে বিজয়ের ওপর গুলি চালায়। পুরনো শত্রুতাকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে পরিবার।
মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে আয়া নগরের দ্য পারফেক্ট জিমের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। বিজয় সেখানে ট্রেনার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার সময় তিনি জিমের ভিতরে নিজের অনলাইন ট্রেনিং সেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পরিবারের মতে, দুইটি বাইকে চারজন হামলাকারী এসেছিল। একটি শিশুর মাধ্যমে বিজয়কে জিমের বাইরে ডেকে আনা হয়। তিনি বাইরে আসার পর বাইকে থাকা হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে। পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে ১২টির বেশি রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
বিজয়ের শরীরে চারটি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি গুলি মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুলি চালানোর পর হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তের আওতায় এনেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, জিমের দুই পাশে থাকা ক্যামেরায় পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি হামলাকারীদের আসা-যাওয়ার পথ এবং ব্যবহৃত বাইক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে।
এখনও পর্যন্ত পুলিশ হামলাকারীদের পরিচয় বা গ্রেফতার সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি। হত্যার প্রকৃত কারণও তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
পরিবার জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো বিজয় সকাল প্রায় ৫টায় জিমের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। প্রায় ১০টার দিকে পরিবার তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পায়।
বিজয়ের স্ত্রী জানান, তিনি আশা করেছিলেন বিজয় প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরবেন। এর মধ্যেই পরিবার তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পায়।
পরিবারের দাবি, বিজয়ের কারও সঙ্গে সরাসরি শত্রুতা ছিল না। তিনি নিয়মিত জিমে যেতেন এবং নিজের কাজ করতেন।
বিজয়ের পরিবার হত্যার পিছনে প্রায় দুই বছর আগের একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুরনো রেষারেষির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যরা রামবীর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং পুলিশি তদন্তের পরই এর সত্যতা স্পষ্ট হবে।
পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে রামবীরের ছেলে খুন হয়েছিল। সেই মামলায় বিজয়ের ছোট ভাই অজয় এখনও জেলে রয়েছে। পরিবারের বক্তব্য, রামবীরের সন্দেহ ছিল যে বিজয়ের পরিবারের ওই পুরনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

পরিবারের মতে, রামবীরের ছেলের হত্যাকাণ্ডের মামলায় নাম থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তি বিজয়ের ছোট ভাই অজয়ের বন্ধু ছিল। সেই কারণে অজয়কেও গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, এই পুরনো বিরোধ থেকেই বিজয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে রেষারেষি তৈরি হয়।
বিজয়ের বড় ভাই ও চাচা অভিযোগ করেছেন, কয়েক দিন আগে রামবীরের স্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের দাবি, ওই হুমকির পর থেকেই তারা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছিলেন।
বিজয়ের হত্যার পর পরিবার পুলিশকে পুরনো বিরোধের বিষয়টিও তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পুরনো রেষারেষির কারণে বিজয়কে নিশানা করা হয়ে থাকতে পারে।
পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিপদের মুখে পড়তে পারেন। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
বিজয়ের পরিবার রামবীরের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করার দাবি জানিয়েছে। পরিবারের বক্তব্য, পুরনো হত্যাকাণ্ড, কথিত হুমকি এবং বিজয়ের হত্যার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা উচিত।
তবে এখনও স্পষ্ট নয় যে রামবীর বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না। এই বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
গুলি চালানোর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের সন্ধানও শুরু হয়েছে।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সম্ভাব্য প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যার উদ্দেশ্যও জানার চেষ্টা করছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে, হামলাকারীরা আগে থেকেই বিজয়কে লক্ষ্য করেছিল কি না অথবা কোনো তাৎক্ষণিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছিল কি না। পরিবারের উল্লেখ করা পুরনো হত্যাকাণ্ড এবং কথিত হুমকির বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।






