বাজার থেকে বোয়াল মাছ কিনে এনে পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা হয়। আঁশ না থাকলেও মাছের গায়ে লেগে থাকে পিচ্ছিল কালো স্তর ও কাদামাটির ময়লা। জোরে ঘষলে চামড়া উঠে যাওয়ার ভয়, আবার ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে থেকে যায় আঁশটে গন্ধ। তবে কয়েকটি ঘরোয়া কৌশল জানা থাকলে এই কাজটাই হয়ে যাবে অনেক সহজ। নুন, খসখসে পাতা কিংবা রান্নাঘরের কয়েকটি পরিচিত উপকরণ দিয়েই পরিষ্কার করা যায় বোয়াল।
নুন দিয়ে সহজেই পরিষ্কার করুন বোয়াল
প্রথমে পরিষ্কার জল দিয়ে মাছের গা ভালো করে ধুয়ে কাদা ও বালি সরিয়ে নিন। এরপর মাছের উপর প্রায় ২ টেবিল চামচ নুন ছড়িয়ে দিন।এবার বাসন মাজার তারের জালি দিয়ে খুব হালকা হাতে মাছের চামড়া ঘষে পরিষ্কার করুন। খুব বেশি চাপ দিয়ে ঘষবেন না। এতে চামড়া উঠে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শেষে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই পিচ্ছিলভাব ও কালচে ময়লা অনেকটাই কমে যাবে।
ডুমুর পাতার কৌশল বেশ কাজে দেয়
বোয়াল মাছ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে খসখসে ডুমুর পাতাও ব্যবহার করা যায়। একটি বড় ডুমুর পাতা নিয়ে মাছের গায়ের উপর আলতোভাবে ঘষে নিন।পাতার খসখসে অংশ মাছের পিচ্ছিল স্তর পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ডুমুর পাতা না থাকলে একই ধরনের খসখসে শিউলি পাতা বা লাউ পাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ঘষার সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়।
তেঁতুল বা ভিনিগারেও মিলবে সমাধান
বোয়ালের কালচে চামড়ার স্তর পরিষ্কারের জন্য তেঁতুল গোলা জল কিংবা সাদা ভিনিগার ব্যবহার করতে পারেন।মাছের গায়ে তেঁতুলের গোলা জল বা সাদা ভিনিগার মাখিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর হালকা হাতে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। সবশেষে প্রচুর পরিষ্কার জল দিয়ে মাছটি ধুয়ে নিন।
লেবু ও নুনের জোড়া কাজে দেবে
বোয়াল মাছ পরিষ্কারের পাশাপাশি আঁশটে গন্ধ কমাতেও লেবু ব্যবহার করা যায়। প্রথমে মাছটি পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন।এরপর মাছের গায়ে লেবুর রস ও নুন মাখিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর আলতো করে ঘষে পরিষ্কার করে আবার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে মাছের গায়ের পিচ্ছিলভাব ও কালচে আস্তরণ পরিষ্কার করার পাশাপাশি গন্ধও কমতে পারে।
আটা দিয়েও পরিষ্কার করা যায়
রান্নাঘরে থাকা আটা দিয়েও বোয়াল মাছ পরিষ্কারের সহজ উপায় রয়েছে। শুকনো আটার সঙ্গে কিছুটা নুন মিশিয়ে মাছের গায়ে লাগিয়ে হালকা হাতে ঘষুন।আটা মাছের গায়ের পিচ্ছিলভাব ও ময়লা শুষে নিতে সাহায্য করে। এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিটিও বিশেষ করে মাছের গায়ের অতিরিক্ত পিচ্ছিলভাব কমাতে কাজে লাগতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি সতর্কতা—গরম জল নয়
বোয়াল মাছ পরিষ্কার করার সময় গরম জল ব্যবহার না করাই ভালো। গরম জলে মাছের চামড়ার গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।মাছ কেটে নেওয়ার পর রান্নার আগে নুন ও হলুদ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে অবশিষ্ট ময়লা ও আঁশটে গন্ধ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মাছ পরিষ্কারের প্রতিটি ধাপেই পরিষ্কার জল ব্যবহার করা জরুরি।
কোন পদ্ধতিটি বেছে নেবেন?
যদি দ্রুত মাছ পরিষ্কার করতে চান, নুন ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে ডুমুর বা অন্য খসখসে পাতা থাকলে সেটিও কাজে লাগানো যায়। আবার আঁশটে গন্ধ নিয়ে বেশি সমস্যা হলে লেবু ও নুনের পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। আর মাছের পিচ্ছিলভাব কমাতে আটা-নুনের মিশ্রণও ব্যবহার করা যায়।তবে যে পদ্ধতিই ব্যবহার করুন না কেন, জোরে ঘষার বদলে ধীরে ও আলতো হাতে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বোয়াল মাছের স্বাদ দুর্দান্ত হলেও এর পিচ্ছিল শরীরের কালচে আস্তরণ পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার। জোরে ঘষতে গেলে আবার মাছের চামড়াও উঠে যেতে পারে। তবে নুন, ডুমুর পাতা, তেঁতুল, ভিনিগার, লেবু বা আটা ব্যবহার করে সহজেই বোয়াল মাছ পরিষ্কার করা যায়। জেনে নিন ঘরোয়া কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি।











