তালের রসে তিতকুটে স্বাদ? ৭ ফোঁটা চুনেই ম্যাজিক! বড়া, ক্ষীর, লুচি হবে দুর্দান্ত, রইল সহজ ঘরোয়া টোটকা

তালের বড়া, ক্ষীর বা লুচি বানাতে গিয়ে তিতকুটে স্বাদে সমস্যা? জেনে নিন চুন, আমপাতা ও অন্যান্য সহজ ঘরোয়া উপায়ে পাকা তালের রসের তিক্ততা কমানোর কার্যকর টিপস।

ভাদ্র মাস এলেই বাঙালির রান্নাঘরে শুরু হয় তালের নানা পদের উৎসব। কিন্তু অনেক সময় পাকা তালের রসে থাকা তিতকুটে স্বাদ পুরো রান্নার মজাই নষ্ট করে দেয়। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল জানলে সেই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়। কীভাবে? জেনে নিন ধাপে ধাপে।

চুনের কয়েক ফোঁটায় কমতে পারে তালের তিতকুটে স্বাদ

প্রথমে তালের আঁটি থেকে ভালোভাবে ঘন রস বের করে নিন। এরপর পান সাজানোর জন্য ব্যবহৃত খাবারযোগ্য চুন সামান্য জলে গুলে পাতলা করুন।এই মিশ্রণ থেকে ৭-৮ ফোঁটা তালের রসে দিন। কয়েক মিনিট পর দেখা যাবে চুনের ফোঁটাগুলি ঘন হয়ে গেছে। এরপর সেগুলি তুলে ফেলুন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এতে তালের রসের তিক্ততা অনেকটাই কমে যায়।

আমপাতা বা কাঁঠালপাতার কৌশলও ব্যবহার করতে পারেন

পাতার খসখসে অংশে সামান্য চুন মেখে তা ১-২ মিনিট তালের রসে ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পাতাটি তুলে ফেলুন। পাতায় লেগে থাকা রস ব্যবহার না করে বাকি রস রান্নার কাজে ব্যবহার করুন।আমপাতা না থাকলে কাঁঠালপাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে।

চুন না থাকলে এই পদ্ধতিও কাজে লাগতে পারে

যাঁদের বাড়িতে চুন নেই, তাঁরা তালের রস কিছুক্ষণ জ্বাল দিতে পারেন। এতে অনেক সময় তিতকুটে ভাব কমে আসে।এরপর পরিষ্কার সুতি বা মলমলের কাপড়ে রস বেঁধে ১-২ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখুন। দই থেকে হাং কার্ড তৈরির মতো অতিরিক্ত জল বেরিয়ে গেলে রস আরও ঘন হবে এবং তিক্ততা কিছুটা কমতে পারে।

কোন কোন পদে ব্যবহার করবেন?

তিক্ততা কমানো তালের রস দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায়—

তালের বড়া

তালের ক্ষীর

তালের লুচি

তালের পায়েস

তালের পিঠে

তালের মালপোয়া

ঠিকভাবে রস প্রস্তুত করলে প্রতিটি পদেই স্বাদ আরও ভালো হতে পারে।

মনে রাখুন

চুন ব্যবহার করলে অবশ্যই খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন এবং পরে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে ফেলুন। অতিরিক্ত চুন ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিষ্কার উপকরণ ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পাকা তালের বড়া, ক্ষীর বা লুচি বানাতে গিয়ে তিতকুটে স্বাদে মাটি হয়ে যায় সব পরিশ্রম? কয়েকটি সহজ ঘরোয়া কৌশল মেনে চললে তালের রসের তিক্ততা অনেকটাই কমানো সম্ভব। চুন, আমপাতা কিংবা জ্বাল দিয়ে রস প্রস্তুতের এই পদ্ধতিগুলি অনেকের কাছেই জনপ্রিয়।

Leave a comment