উত্তরপ্রদেশের প্রথম বনবিদ্যা ও উদ্যানবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। গোরখপুরের ক্যাম্পিয়ারগঞ্জ এলাকার ভারীভাইসিতে নির্মিতব্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাসের জন্য আগামী ২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু করেছিল প্রশাসন। তবে নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি। এখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন সময় পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বন দফতর। তাঁর সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর শিলান্যাসের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
গোরখপুরে প্রস্তাবিত বনবিদ্যা ও উদ্যানবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি চলছিল। ২ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি দফতরকে পৃথক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানস্থলের জমি সমতল করার কাজ করেছিল তহসিল প্রশাসন। অন্যদিকে, গণপূর্ত দফতর (PWD) অনুষ্ঠানের জন্য জার্মান হ্যাঙ্গার তাঁবু তৈরির কাজ শুরু করেছিল। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানস্থল সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছিল। নগর পঞ্চায়েতের কর্মীরা মূল রাস্তা থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছিলেন।
এর মধ্যেই শিলান্যাস অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার খবর আসে। কী কারণে নির্ধারিত অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি। আপাতত প্রশাসনিক আধিকারিকদের নজর নতুন তারিখ পাওয়ার দিকে।
উত্তরপ্রদেশের প্রথম বনবিদ্যা ও উদ্যানবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়টি গোরখপুরের ক্যাম্পিয়ারগঞ্জ এলাকার ভারীভাইসিতে নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির জন্য প্রায় ১২৩ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত জমিটি গোরখপুর বনাঞ্চল এবং মহারাজগঞ্জ জেলার ফরেন্দা তহসিল এলাকার মধ্যে পড়ে।
এই কারণে প্রকল্পটির ক্ষেত্রে জমির প্রশাসনিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় স্তরে ভারীভাইসিকে ক্যাম্পিয়ারগঞ্জ তহসিলের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
![]()
বিশ্ববিদ্যালয়টি তৈরি হলে বনবিদ্যা ও উদ্যানবিদ্যা সংক্রান্ত শিক্ষার জন্য এলাকায় একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। বর্তমানে প্রকল্পটি নির্মাণের আগের পর্যায়ে রয়েছে। শিলান্যাসের পরই পরবর্তী কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
শিলান্যাসের প্রস্তুতি চলাকালীন কয়েক দিন আগে জেলায় এসেছিলেন বন দফতরের প্রধান সচিব। তিনি প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চলা প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, বন দফতরের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন।
শিলান্যাস অনুষ্ঠান স্থগিত হলেও দফতরীয় স্তরে প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে নতুন সময় পাওয়া গেলে যাতে পুনরায় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি বজায় রাখছেন আধিকারিকরা।
এদিকে বন দফতর এবং স্থানীয় প্রশাসন নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজকর্ম দেখভাল করছে। তবে শিলান্যাসের নতুন তারিখ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাসের পরবর্তী কর্মসূচি এখন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সময়সূচির উপর নির্ভর করছে। আধিকারিকদের আশা, শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সময় পাওয়া যাবে। এরপর শিলান্যাসের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
গোরখপুরের ডিএফও শুভম সিং জানিয়েছেন, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ পাওয়ার ভিত্তিতেই বন দফতর প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ক্যাম্পিয়ারগঞ্জে প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরপ্রদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বনবিদ্যা ও উদ্যানবিদ্যা বিষয়ক রাজ্যের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হতে চলেছে। এর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে পড়াশোনা ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শিলান্যাসের নতুন তারিখ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণার পরই পরবর্তী পরিস্থিতি জানা যাবে।










