৪ নভেম্বর একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, দক্ষিণ ভারতে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব

৪ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, কর্নাটক, তেলঙ্গানা ও ছত্তীসগঢ়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে IMD। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, পঞ্জাব ও হরিয়ানার আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট জানুন।

নভেম্বরের শুরুতেই দেশের একাধিক অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মুরাসু অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ৪ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, কর্নাটক এবং ছত্তীসগঢ়ের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর ৪ নভেম্বর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ইয়ানামের কয়েকটি অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে। পাশাপাশি কেরল, তামিলনাড়ু, দক্ষিণ অভ্যন্তরীণ কর্নাটক, তেলঙ্গানা এবং ছত্তীসগঢ়ের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওড়িশাতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ঝাড়খণ্ড এবং পূর্ব মধ্যপ্রদেশের কয়েকটি অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং কয়েকটি প্রতিবেদনে একসঙ্গে ১৯টি রাজ্যে মুষলধারে বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। IMD-র সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ১৯টি রাজ্যের জন্য একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়নি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় প্রভাবিত দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে প্রবল হাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। উত্তর-পশ্চিম ভারতের জন্য এ ধরনের গুরুতর সতর্কতা জারি করা হয়নি।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে। নেল্লোর এবং নরসাপুরের মধ্যবর্তী ওঙ্গোলের কাছে ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে এর প্রভাবে ৪ নভেম্বর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিচু এলাকায় জল জমা, গাছ উপড়ে পড়া এবং যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। IMD মৎস্যজীবীদের ৪ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকায় যেতে নিষেধ করেছে।

বুধবার ৪ নভেম্বর দিল্লিতে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানীতে ভারী বৃষ্টি কিংবা প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কোনও সতর্কতা জারি করেনি আবহাওয়া দফতর। তবে সকালে বাইরে বের হলে হালকা কুয়াশার দেখা মিলতে পারে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব কমবে এবং আকাশে রোদ উঠবে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার দিল্লিতে দিনের তাপমাত্রা ২৭ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। অন্যদিকে, রাতের তাপমাত্রা কমে ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। দুপুরে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। সন্ধ্যার পর হাওয়ার গতিবেগ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিল্লিতে ইতিমধ্যেই সকাল ও রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় রোদ উঠলে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও সূর্যাস্তের পর তাপমাত্রা কমতে শুরু করছে। আগামী কয়েক দিনও আবহাওয়ার এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।

উত্তরপ্রদেশে ৪ নভেম্বর বড় আকারের ভারী বৃষ্টি কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। আবহাওয়া দফতরের জাতীয় পূর্বাভাসেও রাজ্যের জন্য ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানানো হয়নি।

৪ নভেম্বর একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, দক্ষিণ ভারতে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব

লখনউ, কানপুর, আগ্রা, মিরাট এবং গোরক্ষপুরের মতো শহরগুলিতে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। কোথাও সকালে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে, আবার কোথাও দিনের বেলায় রোদ উঠবে। নভেম্বর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে।

বিহারেও আপাতত গোটা রাজ্যে ভারী বৃষ্টি কিংবা প্রবল ঝড়ের কোনও সতর্কতা নেই। পটনা, গয়া, মুজফ্ফরপুর, দরভাঙা এবং ভাগলপুর-সহ একাধিক জেলায় আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সকাল ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে সকালে কাজে বের হওয়া মানুষেরা আবহাওয়ার এই পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। কোনও জেলায় আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন হলে স্থানীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুসরণ করা প্রয়োজন।

রাজস্থানেও বুধবার বড় আকারের বৃষ্টি কিংবা প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়নি। জয়পুর, আজমের, সিকার, বিকানের এবং ভরতপুর-সহ একাধিক অঞ্চলে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। দিনের বেলায় রোদ ওঠায় খুব বেশি ঠান্ডা অনুভূত হবে না। তবে সকাল ও রাতের দিকে তাপমাত্রা কম থাকতে পারে। নভেম্বরের প্রথম দিকে রাজস্থানের একাধিক অঞ্চলে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।

পঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও আপাতত বড় কোনও আবহাওয়ার পরিবর্তনের পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের ক্ষেত্রেও গোটা রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টি কিংবা ভূমিধসের কোনও ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। তাই পাহাড়ে ভ্রমণে যাওয়ার আগে সেখানকার আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি কিংবা প্রবল হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কেরল এবং ছত্তীসগঢ়ের কৃষকদের নিজেদের জেলার সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে কৃষিকাজের পরিকল্পনা করা উচিত।

কোনও এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে কৃষিজমিতে যাতে জল জমে না থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব জমিতে ফসল কাটার উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে, সেখানে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফসল কাটা এবং অন্যান্য কৃষিকাজের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

প্রবল হাওয়ার সময় দুর্বল গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটির কাছে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে হবে। বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হলে খোলা মাঠে কিংবা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ নয়।

 

Leave a comment