উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির অধীনে ৩ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন শহরে পদযাত্রার আয়োজন করেছে দল। মঙ্গলবার লখনউ থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হচ্ছে। পরবর্তী দুই দিনে গোরক্ষপুর, প্রয়াগরাজ, কানপুর এবং গাজিয়াবাদেও পদযাত্রা ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
বিজেপির এই অভিযানের প্রথম বড় কর্মসূচি ৩ নভেম্বর লখনউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। লোকভবন থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি পরিবর্তন চৌকের দিকে এগোবে। স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টায় এই যাত্রা শুরু হওয়ার কথা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী, উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক এবং রাজ্য সংগঠন সম্পাদক ধর্মপাল সিং। কর্মসূচি সফল করতে দলের কর্মী ও পদাধিকারীদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির দাবি, লখনউয়ের এই পদযাত্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিদেরও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিজেপি এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’। দলের অভিযোগ, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদযাত্রার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এই অভিযোগ তুলে ধরতে চায় বিজেপি।
![]()
অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দিলীপ প্যাটেলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দ্বিচারিতার বিষয়গুলি নিয়ে মানুষের কাছে যাবে দল। বিজেপি নেতাদের দাবি, এই পদযাত্রার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সামনে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
তবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিজেপির এই অভিযোগগুলি দলের রাজনৈতিক বক্তব্য। এগুলিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
লখনউয়ের পর ৪ নভেম্বর গোরক্ষপুরে বিজেপির বড় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পদযাত্রায় অংশ নেবেন। উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীরও।
পদযাত্রার পাশাপাশি গোরক্ষপুরে জনসভা এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচিও প্রস্তাবিত হয়েছে। কর্মীদের সক্রিয় করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দল।
২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নীতিন নবীনের গোরক্ষপুর সফরকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে দলের পদাধিকারী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।
৪ নভেম্বর একই দিনে প্রয়াগরাজ এবং কানপুরেও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়াগরাজের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। অন্যদিকে, কানপুরের কর্মসূচিতে প্রধান ভূমিকা পালন করবেন উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক।
এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। প্রস্তুতির কাজে দলের আঞ্চলিক সংগঠনগুলিকেও যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও বেরেলিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী-সহ দলের একাধিক প্রবীণ নেতার অংশগ্রহণে একটি কর্মসূচি প্রস্তাবিত রয়েছে।
বিজেপির এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ নভেম্বর গাজিয়াবাদে পদযাত্রা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের এই কর্মসূচিও রাজ্যজুড়ে দলের পরিকল্পিত অভিযানের অংশ।
২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে এই পদযাত্রাগুলিকে বিজেপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছে দল, অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে শীর্ষ নেতাদের পাঠিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এই কর্মসূচিগুলিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং নেতাদের বক্তব্যের ওপর নজর থাকবে। আগামী দিনে কোন কোন বিষয়কে সামনে রেখে বিজেপি জনসংযোগ কর্মসূচি চালাবে, তার ইঙ্গিতও এই পদযাত্রাগুলি থেকে পাওয়া যেতে পারে।





