সিকারে দুই বুথে ইভিএম বিকল, ৪০ মিনিট বন্ধ থাকল ভোটগ্রহণ

রাজস্থানের সিকার জেলার হর্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯৩ ও ৯৭ নম্বর বুথে ইভিএম বিকল হওয়ায় প্রায় ৪০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে সকাল ৮টা নাগাদ ফের ভোট শুরু হয়।

রাজস্থানের সিকার জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন দুটি বুথে ইভিএম বিকল হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। মঙ্গলবার সকালে হর্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি স্কুলে তৈরি ৯৩ ও ৯৭ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটে। পরে যান্ত্রিক সমস্যা মিটলে সকাল ৮টা নাগাদ ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই ঘটনায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সিকার জেলা কংগ্রেস সভাপতি সুনীতা গঠালা।

৩ নভেম্বর সিকার জেলার পাঁচটি পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায় জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে। হর্ষ গ্রামের সরকারি স্কুলে তৈরি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের লাইন জমতে শুরু করে। হালকা ঠান্ডার মধ্যেও গরম পোশাক পরে ভোট দিতে আসেন বহু মানুষ।

ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ৯৩ ও ৯৭ নম্বর বুথের ইভিএমে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে দুটি বুথেই ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখতে হয়। ভোট দিতে আসা মানুষকে নিজেদের পালার অপেক্ষায় থাকতে হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পর সমস্যার সমাধান হলে সকাল ৮টা নাগাদ ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সকালের সময়টিকে ভোটদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। অনেকেই নিজেদের কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভোট দিতে আসেন। ফলে ভোটগ্রহণের শুরুতেই ইভিএম বিকল হওয়ায় তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়।

দুটি বুথে ইভিএম বিকল হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস প্রার্থী তথা সিকার জেলা কংগ্রেস সভাপতি সুনীতা গঠালা। ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সিকারে দুই বুথে ইভিএম বিকল, ৪০ মিনিট বন্ধ থাকল ভোটগ্রহণ

সুনীতা গঠালা বলেন, অধিকাংশ মানুষ সকালেই ভোট দিতে আসেন। সেই সময় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই ইভিএম বিকল হয়ে যাওয়া প্রশাসনের বড় গাফিলতি। গণতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ভোটগ্রহণের সময় এ ধরনের সমস্যা মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে কিছুক্ষণ পর দুটি বুথেই ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর অপেক্ষায় থাকা ভোটাররা নিজেদের পালা অনুযায়ী ভোট দেন।

সিকার জেলার পাঁচটি পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায় জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই নির্বাচনে জেলা পরিষদের ১৪টি এবং পঞ্চায়েত সমিতির ৮৯টি সদস্যপদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভোটাররা ইভিএমের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।

ভোটগ্রহণের আগে নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। সিকারের এসকে গার্লস কলেজ থেকে ভোটকর্মীদের সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলিতে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ে ভোটপ্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তাঁদের নির্বাচনী সামগ্রীও সরবরাহ করা হয়েছিল।

পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে সিকারের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উৎসাহ দেখা যায়। সরবড়ি গ্রামে ৮০ বছর বয়সি রামু দেবী হুইলচেয়ারে বসে ভোট দিতে আসেন। বয়স বেশি হওয়া এবং চলাফেরায় অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভোটদানে অংশ নেন।

অন্যদিকে, খাচারিয়াওয়াসের সরকারি স্কুলে তৈরি আদর্শ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের স্বাগত জানানোর জন্য বিশেষ প্রবেশদ্বারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে ভোট দিতে আসা মানুষদের অভ্যর্থনার ব্যবস্থাও রাখা হয়।

হর্ষ গ্রামেও সকাল থেকেই ভোটারদের লাইন দেখা যায়। ইভিএম বিকল হওয়ার কারণে কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলেও পরে তা পুনরায় শুরু হয়।

জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচনের পর আগামী ৫ নভেম্বর পঞ্চ ও সরপঞ্চ পদে ভোটগ্রহণ হবে। সিকার জেলার পাঁচটি পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার ১৩৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও পঞ্চ ও সরপঞ্চ পদে ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্য ইভিএমে নথিভুক্ত হচ্ছে। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এরপর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায় শুরু হবে।

 

Leave a comment