ধনতেরাস ও দীপাবলির আগে বারাণসীর বাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। গণেশ-লক্ষ্মীর মূর্তি, মাটির প্রদীপ, রঙিন আলোর মালা, মিষ্টি এবং উপহারের দোকানগুলি উৎসবের সামগ্রীতে সেজে উঠেছে। নিজেদের বাজেট অনুযায়ী উৎসবের প্রস্তুতি সারছেন ক্রেতারা।
দীপাবলি যত এগিয়ে আসছে, ততই বারাণসীর বাজারগুলিতে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সকাল থেকেই কেনাকাটার জন্য বাজারে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ পুজোর জন্য লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি কিনছেন, আবার কেউ বাড়ি সাজানোর জন্য রঙিন আলোর মালা ও প্রদীপ পছন্দ করছেন। মিষ্টির দোকানগুলিতেও উৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ধনতেরাসের জন্য বাসনপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনাকাটাও শুরু করেছেন ক্রেতারা। আগামী দিনগুলিতে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারে ছোটখাটো প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে দামি উপহার—সব ধরনের জিনিসই পাওয়া যাচ্ছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন মানুষ। ধনতেরাস উপলক্ষে কিছু পরিবার নতুন গাড়ি ও দামি সামগ্রী কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, অনেকেই বাসনপত্র কিনে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখার পরিকল্পনা করছেন। উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসছে, বিক্রির প্রস্তুতিও তত বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
দীপাবলিতে বাড়িতে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করার রীতি রয়েছে। সেই কারণে এই দুই দেবদেবীর মূর্তির দোকানগুলিতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে মাটি, পিতল এবং অন্যান্য ধাতু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মূর্তি পাওয়া যাচ্ছে।
কেউ ঐতিহ্যবাহী মূর্তি পছন্দ করছেন, আবার কেউ রঙিন ও সাজসজ্জার উপযোগী প্রতিমা কিনছেন। ক্রেতাদের বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটার সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন আকার ও নকশার মূর্তি সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা।
মূর্তির পাশাপাশি পুজোর থালা, মাটির প্রদীপ, ধূপ, আগরবাতি এবং অন্যান্য পুজোর সামগ্রীরও বিক্রি চলছে। উৎসবের দিনে বাজারের ভিড় এড়াতে অনেক পরিবার আগেভাগেই পুজোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিচ্ছে।
কাশীতে দীপাবলিতে ঘরোন্দা তৈরির পুরনো ঐতিহ্য এখনও প্রচলিত রয়েছে। এই উপলক্ষে শিশুরা বাড়িতে মাটি বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ছোট ছোট ঘর তৈরি করে সেগুলি সাজিয়ে তোলে।
এই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে বাজারে মাটির ছোট বাসনপত্র ও খেলনার দোকানগুলিও সাজিয়ে উঠেছে। সেখানে হাতি, ঘোড়া, উনুন, কলস এবং বিভিন্ন ধরনের ছোট বাসনপত্র পাওয়া যাচ্ছে।
অভিভাবকদের সঙ্গে এই দোকানগুলিতে যাচ্ছে শিশুরা। কেউ ঘরোন্দা সাজানোর জন্য মাটির উনুন কিনছে, আবার কারও পছন্দ ছোট ঘোড়া ও হাতির খেলনা। এসব সামগ্রীর বিক্রির ফলে মাটির খেলনা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরেরাও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।
![]()
দীপাবলিতে বাড়িঘর আলোকিত করার জন্য বৈদ্যুতিক আলোর মালার চাহিদাও বাড়ছে। দোকানগুলিতে রং পরিবর্তনকারী এলইডি আলো, তারার আকৃতির আলোর মালা এবং পর্দার মতো ঝুলন্ত আলোর বিভিন্ন নকশা রাখা হয়েছে।
কিছু ক্রেতা বারান্দা ও ছাদ সাজানোর জন্য লম্বা আলোর মালা কিনছেন। অন্যদিকে, অনেকে বাড়ির প্রবেশদ্বার ও পুজোর স্থান সাজানোর জন্য ছোট আকারের আলো পছন্দ করছেন।
ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন নকশা ও আকারের আলো মজুত রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু বাড়ি নয়, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সাজানোর জন্যও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন অনেকে।
দীপাবলি উপলক্ষে বাজির দোকানগুলিতেও ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। বাজারে ফুলঝুরি, অনার ও চাকরির মতো বাজির চাহিদা দেখা যাচ্ছে।
শিশুরা নিজেদের পছন্দের বাজি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছে। অন্যদিকে, বড়রা দাম ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সামগ্রী দেখছেন। পরিবেশবান্ধব গ্রিন বাজি সম্পর্কেও দোকানিদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছেন ক্রেতারা।
বাজি কেনার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলা প্রয়োজন।
দীপাবলিতে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মিষ্টি উপহার দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই কারণে মিষ্টির দোকানগুলিতেও উৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
কাজু কাতলি, পেড়া, লাড্ডু-সহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির পাশাপাশি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে শুকনো ফলের বাক্স। উৎসব উপলক্ষে বিশেষ উপহারের প্যাকেটও তৈরি করেছেন একাধিক দোকানি।
কেউ পরিবারের জন্য মিষ্টি কিনছেন, আবার কেউ আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের উপহার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সামগ্রী দেখছেন।
এ ছাড়াও মহিলাদের চুড়ি, ঝুমকো, বালা এবং অন্যান্য ফ্যাশন গয়নার দোকানগুলিতেও কেনাকাটা চলছে। উৎসবে নতুন পোশাকের সঙ্গে পরার জন্য বিভিন্ন নকশার গয়না পছন্দ করছেন ক্রেতারা।
ধনতেরাস ও দীপাবলি যত এগিয়ে আসছে, কাশীর বাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সামগ্রী সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।









