উত্তরপ্রদেশে আগামী সাত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, কমবে রাতের তাপমাত্রা

উত্তরপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমার পর আবহাওয়া পরিষ্কার হয়েছে। আগামী সাত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মুজফফরনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তে পারে। Is this conversation helpful so far?

উত্তরপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে যাওয়ার পর আবহাওয়া পরিষ্কার হয়েছে। রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিন পশ্চিম ও পূর্ব উত্তরপ্রদেশে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে সকাল ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে দিনের তুলনায় সকাল ও রাতে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়বে।

নভেম্বরের শুরু থেকেই উত্তরপ্রদেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুপুরে রোদ থাকলেও সকালে বাড়ির বাইরে বের হলে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। রাতেও আগের তুলনায় তাপমাত্রা কমছে। বুধবার, ৪ নভেম্বর, লখনউ-সহ রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। আগামী দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

আগামী সাত দিন উত্তরপ্রদেশে শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস

উত্তরপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে যাওয়ার পর বৃষ্টির পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। সোমবার থেকে রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার রয়েছে। তবে কয়েকটি জেলায় সকালের দিকে হালকা ধোঁয়াশা ও কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠছে এবং দুপুরে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর থেকে আগামী সাত দিন পশ্চিম ও পূর্ব উত্তরপ্রদেশে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। এই সময় রাজ্যের কোথাও ভারী বৃষ্টি কিংবা ঝড়বৃষ্টির কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি।

আগামী দু'দিনে রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রায় আপাতত বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে সকাল ও রাতে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হলেও দুপুরে রোদের কারণে আবহাওয়া তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকবে।

মুজফফরনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৩ ডিগ্রি, দ্বিতীয় স্থানে হরদোই

উত্তরপ্রদেশে আপাতত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মুজফফরনগরে। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজ্যের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, হরদোইয়ে রাতের তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়া উরাইয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, মেরঠে ১৬.৩ ডিগ্রি এবং বেরেলিতে ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজ্যের প্রায় ২৫টি জেলায় রাতের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে।

এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি মধ্য উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি জেলাতেও সকাল ও রাতের ঠান্ডা বাড়তে শুরু করেছে। তবে দিনের বেলায় এখনও তেমন শীত অনুভূত হচ্ছে না।

লখনউয়ে দিনের তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি, রাতে নামছে পারদ

রাজধানী লখনউয়ে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেলায় রোদ ওঠায় গরম অনুভূত হলেও রাতের দিকে তাপমাত্রা কমে যায়।

বুধবারও লখনউয়ে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। সকালে হালকা ধোঁয়াশা থাকলেও দিনের বেলায় রোদ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

নয়ডা, গাজিয়াবাদ, মেরঠ এবং আশপাশের জেলাগুলিতেও আকাশ পরিষ্কার থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে সকালের দিকে ধোঁয়াশার কারণে কয়েকটি এলাকায় দূরের দৃশ্য দেখতে সমস্যা হতে পারে।

দীপাবলির পর আরও কমতে পারে তাপমাত্রা

বর্ষীয়ান আবহাওয়াবিদ অতুল কুমার সিংয়ের মতে, নভেম্বর মাস যত এগোবে, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। দীপাবলির পর উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।

বর্তমানে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বৃষ্টির কোনও বড় আবহাওয়াজনিত ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পূর্বাভাস নেই। তবে সকাল ও রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন অনুভূত হচ্ছে।

ঝাঁসিতে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়াগরাজ, বারাণসী, বহরাইচ এবং আগ্রাতেও দিনের তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল। অর্থাৎ, রাজ্যে দিনের বেলার গরম এখনও পুরোপুরি কমেনি।

সকালের কুয়াশায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সকালের দিকে বাড়ির বাইরে বের হওয়া মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় হালকা ধোঁয়াশার কারণে রাস্তায় দৃশ্যমানতা কমতে পারে। তাই গাড়ি চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কথা মাথায় রেখে সকালে বাইরে বের হওয়ার সময় হালকা গরম পোশাক সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

Leave a comment