বিজেপির ব্রজ ক্ষেত্র মহিলা মোর্চার নতুন কার্যসমিতির ৩৯ জন পদাধিকারীর তালিকা প্রকাশের পরই বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর আঞ্চলিক সভাপতি পূরণলাল লোধী তালিকাটি প্রকাশ করেছিলেন। তবে তালিকায় থাকা একটি নাম নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আপত্তি ওঠায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা স্থগিত করা হয়। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছেছে। এখনও পর্যন্ত সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করেনি দল।
দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক পদ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা মহিলা নেত্রীদের জন্য ৩০ অক্টোবর নতুন দায়িত্ব ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্রজ ক্ষেত্র মহিলা মোর্চার আঞ্চলিক সভাপতি পূরণলাল লোধী ৩৯ জন পদাধিকারীর নামের তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে আগ্রার একাধিক মহিলা নেত্রীকে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তালিকা প্রকাশের পর বেশ কয়েকজন পদাধিকারী নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সেটি শেয়ার করেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবর তাঁদের সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ওই দিন রাতেই হঠাৎ তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত একটি নাম নিয়ে দলের কয়েকজন পদাধিকারী আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগও জমা পড়ে। এরপরই তালিকাটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সংশোধিত তালিকা কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে সংগঠনের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি।
৩০ অক্টোবর প্রকাশিত তালিকায় আগ্রার একাধিক মহিলা নেত্রীর নাম ছিল। উপমা গুপ্তাকে সহ-সভাপতি এবং রঞ্জনা পাঁওয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। অন্যদিকে, শশিকে দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া জ্যোতি জাদৌনকে আইটি আহ্বায়ক এবং প্রিয়াঙ্কা দুবেকে সোশ্যাল মিডিয়া আহ্বায়ক করা হয়েছিল। প্রতিমা ভার্গবকে কার্যসমিতির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
নতুন দায়িত্বের ঘোষণা সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট নেত্রী এবং তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। কয়েকজন পদাধিকারী নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া পরিচিতিতেও নতুন সাংগঠনিক পদের উল্লেখ করেছিলেন।
তবে তালিকা স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বেশ কয়েকজন নেত্রী নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে তালিকাটি সরিয়ে নেন। যদিও কয়েকজনের সোশ্যাল মিডিয়া পরিচিতিতে এখনও ঘোষিত পদের উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
![]()
মহিলা মোর্চার নতুন কার্যসমিতিতে অন্তর্ভুক্ত একটি নাম নিয়ে সংগঠনের কয়েকজন পদাধিকারী আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। দলীয় সূত্রে পাওয়া আলোচনায় উঠে এসেছে, ওই অভিযোগের পরই তালিকাটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।
যে নামটি নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেই ব্যক্তির পাশে ব্রজ ক্ষেত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর সমর্থন রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। তবে এই দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
বিজেপির তরফে এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি, ঠিক কোন নামটি নিয়ে আপত্তি উঠেছিল কিংবা বিতর্কের প্রকৃত কারণ কী। ফলে কোনও নির্দিষ্ট পদাধিকারীকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা এখনই যথাযথ হবে না।
বিজেপিতে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠনের সময় বিভিন্ন স্তরে সম্ভাব্য পদাধিকারীদের নাম বিবেচনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় নেতাদের সাংগঠনিক সক্রিয়তা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
আঞ্চলিক স্তরে দায়িত্ব দেওয়ার আগে নাম নিয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়। এরপর পদাধিকারীদের তালিকা ঘোষণা করা হয়।
ব্রজ ক্ষেত্র মহিলা মোর্চার তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এই প্রক্রিয়া নিয়েই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। দলের মধ্যে আলোচনা চলছে, নামগুলি নিয়ে আগে থেকেই সম্মতি থাকলে তালিকা প্রকাশের পর আপত্তি উঠল কেন।
তবে এই বিষয়ে সংগঠনের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ব্রজ ক্ষেত্র মহিলা মোর্চার ৩৯ জন পদাধিকারীর তালিকা স্থগিত হওয়ার পর এখন সংশোধিত তালিকার অপেক্ষা চলছে। যাঁদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের সাংগঠনিক পদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আগের তালিকায় থাকা সমস্ত নাম বহাল থাকবে, নাকি কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাজ্য নেতৃত্বের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরই ব্রজ ক্ষেত্র মহিলা মোর্চার নতুন কার্যসমিতির চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত তালিকাকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।









