WhatsApp-এ 'NO' লিখলেই কি টাকা কাটে? সাইবার প্রতারণার আসল কৌশল জানালেন বিশেষজ্ঞ

WhatsApp-এ ব্যাঙ্কের মেসেজে 'NO' লিখলেই কি টাকা কেটে যায়? সাইবার বিশেষজ্ঞ অমিত দুবে জানালেন ভুয়ো লিঙ্ক, OTP, UPI PIN এবং ব্যাঙ্কিং তথ্যের মাধ্যমে প্রতারণার কৌশল।

WhatsApp-এ অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ব্যাঙ্কের মেসেজের জবাবে 'NO' লিখলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যাচ্ছে—এমন খবর ঘিরে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সাইবার বিশেষজ্ঞ অমিত দুবে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র 'NO' লিখে উত্তর দিলেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। বরং এর পর পাঠানো ভুয়ো লিঙ্ক, ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং UPI পেমেন্ট রিকোয়েস্টের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়।

সাইবার বিশেষজ্ঞ অমিত দুবের মতে, WhatsApp-এ কোনও মেসেজের উত্তরে 'NO' লিখলে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া যায় না। প্রতারকরা মূলত এই উত্তরের মাধ্যমে কথোপকথন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কোনও ব্যক্তি তাঁদের মেসেজের উত্তর দিলে তাঁরা বুঝতে পারেন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের পাঠানো বার্তায় সাড়া দিচ্ছেন।

বিষয়টি বোঝাতে একটি উদাহরণ দিয়েছেন অমিত দুবে। ধরুন, কোনও অপরিচিত WhatsApp নম্বরের প্রোফাইল ছবিতে SBI-এর লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। সেই নম্বর থেকে আপনাকে মেসেজ পাঠিয়ে জানানো হল, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এই লেনদেন না করে থাকেন, তাহলে অবিলম্বে 'NO' লিখে উত্তর দিতে বলা হল।

হঠাৎ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে যাওয়ার মেসেজ পেয়ে যে কেউ আতঙ্কিত হতে পারেন। সেই পরিস্থিতিতে অনেকেই যাচাই না করেই উত্তর দিয়ে ফেলেন। প্রতারকরা এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে।

কেউ 'NO' লিখে উত্তর দিলে প্রতারকরা ব্যাঙ্ককর্মী পরিচয় দিয়ে পরবর্তী মেসেজ পাঠাতে পারে। সেখানে অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের কথা জানিয়ে তা বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে ব্যাঙ্কের তথ্য যাচাই করতে বলা হতে পারে।

এর সঙ্গে একটি লিঙ্কও পাঠানো হতে পারে। দেখতে সেটি ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি সাইবার অপরাধীদের তৈরি ভুয়ো ওয়েবপেজ হতে পারে।

কোনও ব্যক্তি ওই পেজে নিজের ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা OTP দিলে প্রতারকরা সেগুলির অপব্যবহার করতে পারে। একইভাবে UPI পেমেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে সেটি গ্রহণ করানোর চেষ্টাও করা হতে পারে।

তবে শুধুমাত্র কোনও লিঙ্ক খুললে বা UPI রিকোয়েস্ট দেখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে যায়, এমন নয়। সাধারণত পেমেন্টের অনুমোদন অথবা অন্য কোনও সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রতারকরা অর্থ হাতানোর সুযোগ পায়।

WhatsApp-এ 'NO' লিখলেই কি টাকা কাটে? সাইবার প্রতারণার আসল কৌশল জানালেন বিশেষজ্ঞ

২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে WhatsApp-ভিত্তিক প্রতারণা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছিলেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার। সেই সময় এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক আলোচনা হয়।

প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি WhatsApp-এ আসা একটি মেসেজের উত্তরে শুধু 'NO' লিখেছিলেন। দাবি করা হয়েছিল, তিনি কাউকে OTP জানাননি এবং কোনও অপরিচিত লিঙ্কও খোলেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার ঘটনা সামনে আসে।

তবে ওই ঘটনায় ঠিক কোন প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

সাইবার বিশেষজ্ঞ অমিত দুবে জানিয়েছেন, প্রতারকরা অনেক সময় এই ধরনের মেসেজ পাঠিয়ে প্রথমে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করে। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে ভুয়ো লিঙ্ক পাঠানো অথবা পেমেন্ট রিকোয়েস্ট গ্রহণ করানোর চেষ্টা করে। ফলে শুধুমাত্র 'NO' লিখে উত্তর দেওয়ার কারণেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ভিত্তি নেই।

বর্তমানে WhatsApp-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। কিন্তু সাইবার অপরাধীরা একইভাবে ব্যাঙ্কের নাম ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়ো মেসেজ পাঠাতে পারে। অনেকেই প্রোফাইল ছবিতে ব্যাঙ্কের লোগো দেখে মেসেজটিকে আসল বলে মনে করেন।

কিন্তু WhatsApp প্রোফাইলে যে কোনও ব্যাঙ্কের ছবি ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু ব্যাঙ্কের নাম বা বিজনেস অ্যাকাউন্ট দেখা গেলেই মেসেজটি প্রকৃত ব্যাঙ্ককর্মীর কাছ থেকে এসেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

ধরুন, হঠাৎ কোনও মেসেজে জানানো হল যে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ উত্তর না দিয়ে ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল অ্যাপ খুলে অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স এবং সাম্প্রতিক লেনদেন যাচাই করা উচিত।

মেসেজে কোনও লিঙ্ক থাকলে সেখানে ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের OTP, UPI PIN এবং পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। বিশেষ করে টাকা ফেরত পাঠানোর নামে কেউ UPI PIN চাইলে সেই অনুরোধকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) স্পষ্ট করেছে, UPI-এর মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করার জন্য PIN দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

 

Leave a comment