অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় মাসিক ৩,০০০ টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মহিলা। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছালেও অনেক আবেদন এখনও ভেরিফিকেশনের পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে একই পরিবারের একাধিক প্রাপক, মোবাইল নম্বরের ব্যবহার, DBT সংযোগ এবং আবেদন বাতিলের কারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই বাড়িতে একাধিক প্রাপক? একটি মোবাইল নম্বরেই হবে আবেদন
অনেকের ধারণা ছিল, একই পরিবারের প্রত্যেক সুবিধাভোগীর জন্য আলাদা মোবাইল নম্বর প্রয়োজন। তবে সহজ তথ্য মিত্র কেন্দ্রের আধিকারিক অমিত মালাকারের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পরিবারের জন্য একটি আবেদনপত্রই যথেষ্ট। সেই আবেদনেই পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বয়স এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
যাচাই প্রক্রিয়া শেষে প্রশাসন নির্ধারণ করবে ওই পরিবারের কতজন প্রকৃত সুবিধাভোগী রয়েছেন। অনুমোদন মিললেই প্রত্যেক যোগ্য প্রাপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে।
ফোন নম্বর না থাকলেও DBT লিঙ্ক বাধ্যতামূলক
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল নম্বর না থাকলেও সমস্যা নেই। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে Direct Benefit Transfer (DBT) সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক।
যাঁদের DBT সক্রিয় রয়েছে কি না তা জানা নেই, তাঁদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। DBT সংযুক্ত না থাকলে টাকা জমা হতে দেরি হতে পারে।
ভেরিফিকেশন চলছে, নতুন আবেদন করা যাবে আগস্ট পর্যন্ত
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদন যাচাইয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে, ফলে এখনও আবেদন না করে থাকলে যোগ্য মহিলারা সুযোগ পাবেন।
কোন কোন কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে?
আবেদনপত্রে সামান্য ভুলও সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে—
আধার বা ভোটার কার্ডের তথ্য ভুল থাকলে।
আবেদনকারীর তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে না মিললে।
নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অসঙ্গত হলে।
একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে।
মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তির নামে আবেদন থাকলে।
এসব ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কয়েকটি শ্রেণির আবেদনকারী এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। যেমন—
আয়করদাতা মহিলা।
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়মিত কর্মী।
পঞ্চায়েত, পুরসভা বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মচারী।
সরকারি পেনশনভোগী।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও অনেকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। একই বাড়িতে একাধিক যোগ্য প্রাপক থাকলে কি আলাদা মোবাইল নম্বর লাগবে? আবেদন যাচাই, DBT লিঙ্ক, আবেদন বাতিলের কারণ এবং নতুন নিয়ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।











