Anushka Sharma: অনুষ্কার এক অর্ডারেই বদলে গেল দুই ভাইয়ের ভাগ্য! ২০২২-এর ৫ অক্টোবর কী ঘটেছিল জানেন?

বিরাট কোহলির জন্য ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর মুম্বইয়ের ‘দিল্লি সে’ থেকে ছোলে-ভাটুরে অর্ডার করেছিলেন অনুষ্কা শর্মা। তারপর কীভাবে বদলে গেল দুই ভাইয়ের ব্যবসার ভাগ্য, জানুন।

একটি সাধারণ খাবারের অর্ডার যে কখনও কোনও ছোট ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, এই ঘটনাই তার উদাহরণ। বিরাট কোহলির জন্য মুম্বইয়ে দিল্লির স্বাদের ছোলে-ভাটুরে খুঁজছিলেন অনুষ্কা শর্মা। শেষ পর্যন্ত তিনি ‘দিল্লি সে’ নামের একটি ছোট রেস্তোরাঁ থেকে দুই প্লেট খাবার অর্ডার করেন। এর আগে রেস্তোরাঁটির ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে ছিল। কিন্তু অনুষ্কার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

মাত্র ২৫০ বর্গফুটের রেস্তোরাঁ, ব্যবসা চলছিল লোকসানে

মুম্বইয়ের চেম্বুরে ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর ‘দিল্লি সে’ নামে রেস্তোরাঁটি শুরু করেছিলেন দুই ভাই জাসপাল সিং খালসা ও মহিন্দর সিং খালসা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল মুম্বইয়ের মানুষকে দিল্লির ছোলে-ভাটুরের স্বাদ দেওয়া।শুরুতে ব্যবসা মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বিক্রি কমতে শুরু করে। মাত্র ২৫০ বর্গফুটের এই ছোট আউটলেটে বসার জায়গা ছিল মাত্র ৯ জনের জন্য। পরিস্থিতি ক্রমে খারাপ হতে থাকায় দুই ভাইয়ের উপর প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা তৈরি হয়।২০২২ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন তাঁরা।

অভিষেক উপমন্যুর পোস্টে প্রথম বড় পরিবর্তন

রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার মুখে থাকলেও আচমকাই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান অভিষেক উপমন্যু সেখানে গিয়ে ছোলে-ভাটুরে খান।অভিষেক তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় খাবারটির প্রশংসা করেন। মজার বিষয়, রেস্তোরাঁর মালিকরা প্রথমে তাঁকে চিনতেই পারেননি। কিন্তু তাঁর পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরই দোকানে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।

তারপর এল ৫ অক্টোবরের সেই অর্ডার

অভিষেকের পোস্টের পর ‘দিল্লি সে’-র কথা আরও মানুষের কাছে পৌঁছয়। এরই মধ্যে অনুষ্কা শর্মাও মুম্বইয়ে দিল্লির স্টাইলে ছোলে-ভাটুরে পাওয়া যায় এমন জায়গার খোঁজ করছিলেন২০২২ সালের ৫ অক্টোবর, বিরাট কোহলির জন্য তিনি এই রেস্তোরাঁ থেকে দুই প্লেট ছোলে-ভাটুরে অর্ডার করেন।রেস্তোরাঁর মালিকরা প্রথমে অর্ডারটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়তো কেউ মজা করছেন। কিন্তু পরে বোঝা যায়, অর্ডারটি সত্যিই অনুষ্কা শর্মার তরফ থেকেই করা হয়েছিল।

অনুষ্কার পোস্টের পরেই বাড়ল জনপ্রিয়তা

খাবার পাওয়ার পর অনুষ্কা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান যে তিনি একেবারে দিল্লির স্বাদের ছোলে-ভাটুরে পেয়েছেন। এই পোস্টে তিনি অভিষেক উপমন্যুর কথাও উল্লেখ করেন।এরপরই রেস্তোরাঁটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ছোট্ট দোকানের বাইরে ক্রেতাদের লাইন পড়তে শুরু করে। যে রান্নাঘরে আগে দিনে প্রায় ৮ কেজি ছোলে তৈরি করা হত, কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে প্রায় ১০০ কেজি ছোলে তৈরি করতে শুরু করা হয় বলে রেস্তোরাঁর মালিকদের দাবি।

চারটি আউটলেট, প্রতিদিন হাজার হাজার প্লেট বিক্রি

একসময় যে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবতে হয়েছিল, সেটিই পরে সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে ‘দিল্লি সে’-র চেম্বুর ছাড়াও মুলুন্দ, আন্ধেরি পশ্চিম এবং ভাশিতে আউটলেট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রেস্তোরাঁর মালিকদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন ৩,০০০-এরও বেশি প্লেট ছোলে-ভাটুরে বিক্রি হয়।অর্থাৎ, কয়েক বছরের ব্যবধানে একটি লোকসানে চলা ছোট খাবারের দোকানই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

বিরাটের পছন্দের খাবার খুঁজতে গিয়েই বদলে গেল ব্যবসার গল্প

ঘটনার শুরুটা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত। বিরাট কোহলির পছন্দের দিল্লির ছোলে-ভাটুরে মুম্বইয়ে খাওয়াতে চেয়েছিলেন অনুষ্কা। সেই খাবারের সন্ধান করতে গিয়ে তিনি পৌঁছে যান ‘দিল্লি সে’-তে।একটি অর্ডার, তার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা—এই দুইয়ের প্রভাবেই ছোট ব্যবসাটির পরিচিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দুই ভাইয়ের কাছে তাই ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর দিনটি ব্যবসার ইতিহাসে বিশেষ হয়ে রয়েছে।

বিরাট কোহলির পছন্দের খাবার খাওয়াতে গিয়ে এক ছোট রেস্তোরাঁর ব্যবসায় নতুন মোড় এনে দিয়েছিলেন অনুষ্কা শর্মা। ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর মুম্বইয়ের একটি দিল্লি-স্টাইল ছোলে-ভাটুরের দোকান থেকে বিরাটের জন্য খাবার অর্ডার করেছিলেন অভিনেত্রী। তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই রেস্তোরাঁ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং দ্রুত বাড়তে থাকে ক্রেতার সংখ্যা। দুই ভাইয়ের প্রায় বন্ধ হতে বসা ব্যবসা পরবর্তীতে একাধিক আউটলেটে ছড়িয়ে পড়ে।

Leave a comment