Guess the Actor: ‘রোজা’-র সেই সুপারস্টার! কেরিয়ারের শিখরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্যারালাইসিসের পরেও দুর্ধর্ষ কামব্যাক অরবিন্দ স্বামীর

‘রোজা’ ও ‘বম্বে’-র জনপ্রিয় অভিনেতা অরবিন্দ স্বামীর কেরিয়ারে এসেছিল বড় ধাক্কা। দুর্ঘটনার পর প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে কীভাবে ফের অভিনয়ে ফিরলেন তিনি, জানুন পুরো গল্প।

একসময় পর্দায় তাঁর উপস্থিতিই ছিল দর্শকের কাছে আলাদা আকর্ষণ। মণি রত্নমের পরিচালনায় ‘রোজা’ তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। ‘বম্বে’-সহ একাধিক সফল ছবির পর যখন কেরিয়ার এগিয়ে চলেছে, তখনই অভিনয় থেকে দূরে সরে যান অরবিন্দ স্বামী। এরপর জীবনে আসে আরও বড় ধাক্কা—ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট এবং প্যারালাইসিস। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি।

অভিনেতা হওয়ার পরিকল্পনাই ছিল না

অরবিন্দ স্বামীর ছোটবেলার স্বপ্ন অভিনয় ঘিরে ছিল না। পড়াশোনাতেই তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি। বি.কম করার পর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় উচ্চশিক্ষা নেন।শখের বশে মডেলিং শুরু করার পর তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে যায়। মণি রত্নমের নজরে পড়েন তিনি এবং ১৯৯১ সালে রজনীকান্তের সঙ্গে ‘থালাপথি’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান।

‘রোজা’ বদলে দেয় কেরিয়ার

এর পরের বছরই আসে ‘রোজা’। ১৯৯২ সালের এই ছবি অরবিন্দ স্বামীকে সারা দেশে পরিচিত করে তোলে। তাঁর অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।এরপর ‘বম্বে’ এবং ‘মিনসারা কানভু’-র মতো ছবিও তাঁর কেরিয়ারে সাফল্য এনে দেয়। সেই সময় অরবিন্দ স্বামীর নাম দক্ষিণী সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা দেশের দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।

সাফল্যের মাঝেই অভিনয় থেকে দূরে

কেরিয়ার যখন এগিয়ে চলেছে, তখনই অরবিন্দ স্বামী ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। পারিবারিক আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি।পরবর্তীতে ২০০৫ সালে Talent Maximus India নামে নিজের সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি নিয়োগ, বেতন ব্যবস্থাপনা এবং মানবসম্পদ পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে কাজ করে। কিছু প্রতিবেদনে ২০২২ সালের দিকে তাঁর ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মূল্যায়ন প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছিল।

ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বদলে যায় জীবন

ব্যবসায় নিজের জায়গা তৈরি করার সময়ই আসে কঠিন অধ্যায়। প্রায় ২০০৫ সালের দিকে একটি দুর্ঘটনায় অরবিন্দ স্বামী মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। এর ফলে তাঁর একটি পা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়।দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসা ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তিনি শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টাকরেন।

২০১৩ সালে ফের বড় পর্দায়

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৩ সালে ফের অভিনয়ে ফেরেন অরবিন্দ স্বামী। আর তাঁর প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে ছিলেন সেই পরিচালকই, যিনি একসময় তাঁকে ‘রোজা’-র মতো ছবিতে সুযোগ দিয়েছিলেন—মণি রত্নম।‘কাদাল’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। এরপর ‘থানি ওরুভান’, ‘চেক্কা চিভান্থা ভানাম’, ‘থালাইভি’ এবং ‘মেয়্যাজগান’-এর মতো ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে ফের দর্শকের নজর কাড়েন।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসাতেও সক্রিয়

অরবিন্দ স্বামীর জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসার জগতেও তিনি নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। জীবনের কঠিন শারীরিক পরিস্থিতি পেরিয়ে আবার সিনেমায় ফিরে আসার কারণে তাঁর কেরিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়ও দর্শকের কাছে আলাদা আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

নব্বইয়ের দশকে ‘রোজা’ ও ‘বম্বে’-র মতো ছবিতে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন অরবিন্দ স্বামী। কেরিয়ারের সাফল্যের সময়ই অভিনয় থেকে সরে গিয়ে ব্যবসায় মন দেন তিনি। পরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট পেয়ে এক পা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে ২০১৩ সালে মণি রত্নমের ‘কাদাল’ দিয়ে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।

Leave a comment