Bollywood Brothers: দাদার জন্মদিনেই ছোট ভাইয়ের মৃত্যু! একই দিনে জড়িয়ে আনন্দ-বেদনা, অশোক কুমার ও কিশোর কুমারের মর্মস্পর্শী কাহিনি

বলিউডের দুই কিংবদন্তি ভাই অশোক কুমার ও কিশোর কুমারের জীবনের মর্মস্পর্শী সমাপতন। ১৩ অক্টোবর দাদার জন্মদিনেই প্রয়াত হন কিশোর কুমার।

বলিউডে বহু তারকা পরিবারের গল্প রয়েছে, কিন্তু অশোক কুমার ও কিশোর কুমারের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঘটনাটি সত্যিই আবেগঘন। দাদা অশোক কুমার ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। অন্যদিকে, কিশোর কুমার ছিলেন গায়ক, অভিনেতা, সুরকার ও পরিচালক—বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক শিল্পী। আশ্চর্যের বিষয়, যে ১৩ অক্টোবর দিনটি অশোক কুমারের জন্মদিন হিসেবে পরিচিত, সেই একই তারিখে ১৯৮৭ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিশোর কুমার। দুই ভাইয়ের জীবনের এই ঘটনাই আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

অশোক কুমার: ‘দাদামণি’ নামেই যিনি ছিলেন পরিচিত

হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অশোক কুমারের নাম বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। দর্শকদের কাছে তিনি ‘দাদামণি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর আসল নাম ছিল কুমুদলাল গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর বিহারের ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী এবং পর্দায় সাবলীল উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি হিন্দি সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন অশোক কুমার। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

কিশোর কুমার: গানের জাদুতে আজও অমর

অশোক কুমারের ছোট ভাই কিশোর কুমারের আসল নাম ছিল আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯২৯ সালের ৪ অগস্ট জন্ম নেওয়া এই শিল্পী শুধু গায়ক হিসেবেই নন, অভিনেতা, সুরকার ও পরিচালক হিসেবেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন।

‘রূপ তেরা মস্তানা’, ‘মেরে সপনো কি রানি’ এবং ‘জিন্দেগি এক সফর হ্যায় সুহানা’-র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পেয়েছিল। রোম্যান্টিক গান থেকে বিরহের সুর, আবার কখনও প্রাণখোলা আনন্দ—বিভিন্ন আবেগকে কণ্ঠে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন তিনি।

কিশোর কুমারের গানের জনপ্রিয়তা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও অটুট। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তাঁর গানে খুঁজে পান এক অনন্য অনুভূতি।

১৩ অক্টোবর: দাদার জন্মদিনেই শেষ নিঃশ্বাস ছোট ভাইয়ের

এই দুই ভাইয়ের জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টি জড়িয়ে রয়েছে ১৩ অক্টোবর তারিখের সঙ্গে। অশোক কুমারের জন্মদিন ছিল এই দিনেই। আর ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন কিশোর কুমার।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। ঘটনাচক্রে, সেদিনই ছিল তাঁর দাদা অশোক কুমারের জন্মদিন। পরিবারের কাছে যে দিনটি আনন্দের হওয়ার কথা, সেই দিনই নেমে এসেছিল শোকের ছায়া।

একই পরিবারের দুই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনে একই তারিখের এমন ভিন্ন তাৎপর্য তাঁদের সম্পর্কের স্মৃতিকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।

ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অশোক কুমার?

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোর কুমারের মৃত্যু অশোক কুমারকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের স্মৃতি এবং মৃত্যুর দিনটির সঙ্গে নিজের জন্মদিনের যোগ—সব মিলিয়ে ১৩ অক্টোবর তাঁর জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করত।

কিশোর কুমারের মৃত্যুর পর অশোক কুমার আর আগের মতো জন্মদিন উদ্‌যাপন করতেন না—এমন কথাও বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে সব বর্ণনাকে একইভাবে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরা যায় না।

তবু দুই ভাইয়ের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই তারিখ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক আবেগময় স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অশোক কুমার ও কিশোর কুমার—দুই ভাইয়ের অবদান আজও স্মরণীয়। একজন অভিনয়ের জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন, অন্যজন কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ করেছিলেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। কিন্তু তাঁদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক মর্মস্পর্শী সমাপতন। ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর জন্ম হয়েছিল অশোক কুমারের। আর ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর, দাদার জন্মদিনেই প্রয়াত হন তাঁর ছোট ভাই কিশোর কুমার। একই তারিখ তাই এই দুই কিংবদন্তির জীবনে আনন্দ ও শোকের স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

Leave a comment