উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বারাণসীতে দুই দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৪ ও ১৫ অক্টোবরের এই বৈঠকে কাশী ও গোরক্ষ অঞ্চলের ১৩৩টি বিধানসভা আসনের সঙ্গে যুক্ত ২৬৬ জন পদাধিকারী, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং বিস্তারক অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে গত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা, সাংগঠনিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং আগামী নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি, সমাজবাদী পার্টির (সপা) রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্বাঞ্চলে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিজেপি। বারাণসীতে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে কাশী ও গোরক্ষ অঞ্চলের ১৩৩টি বিধানসভা আসনের সঙ্গে যুক্ত ২৬৬ জন পদাধিকারী, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং বিস্তারক অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে দলের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য কৌশল নির্ধারণ এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
শিবিরে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ, জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিনোদ তাওড়ে এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) ধর্মপাল সিং অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে পদাধিকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
পূর্বাঞ্চলে বিজেপির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক প্রভাব। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আজমগড় জেলার ১০টি আসনেই জয় পেয়েছিল সপা। এ ছাড়া বলিয়া ও মউ-সহ একাধিক এলাকাতেও দলটি ভালো ফল করেছিল। এই ফলাফল পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে সপার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছিল।
অন্যদিকে, গোরক্ষ অঞ্চলে বিজেপির ফল তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। গোরক্ষপুর, দেওরিয়া, কুশীনগর এবং সন্ত কবীরনগরের সব আসনেই জয় পেয়েছিল দলটি। মহারাজগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনেও সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। তবে অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী ফলাফলে একরকম প্রবণতা দেখা যায়নি।
গত নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বিধানসভা কেন্দ্র ধরে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে বিজেপি। আগের নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়া এলাকাগুলির চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা দলের প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পূর্বাঞ্চলের একাধিক আসনে পরাজয়ের মুখে পড়েছিল বিজেপি। বারাণসী অঞ্চলের পিন্দ্রা, আজগরা ও শিবপুরের মতো বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে দলের ভোট কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল। চন্দৌলি ও মছলিশহর-সহ কয়েকটি লোকসভা আসনেও সাফল্য পায়নি দলটি।
এ ছাড়া গাজিপুর, জৌনপুর, ঘোসি ও সলেমপুরের মতো এলাকাতেও নির্বাচনী ক্ষতির মুখে পড়েছিল বিজেপি। কাশীর বৈঠকে গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং স্থানীয় স্তরে দলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।
পূর্বাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিজেপির সহযোগী দল আপনা দল ও নিষাদ পার্টিরও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। গত নির্বাচনে এই দলগুলি মির্জাপুর, ভদোহি, জৌনপুর, সন্ত কবীরনগর, মহারাজগঞ্জ ও গোরক্ষপুরের মতো এলাকায় সাফল্য পেয়েছিল।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সহযোগী দলগুলির সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা এবং বুথ স্তরে সাংগঠনিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাশীর প্রশিক্ষণ শিবির বিজেপির এই প্রস্তুতিরই অংশ। বৈঠকে উঠে আসা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দলটি আঞ্চলিক নির্বাচনী কৌশল এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে এই প্রস্তুতির নির্বাচনী প্রভাব ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরই স্পষ্ট হবে।











