দিল্লির জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় ৩৩ বছর ধরে বিক্ষোভ ও ধরনা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থানের পরিবর্তে রাজধানীতে তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান। এদিকে, জন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মামলাটির শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে দিল্লিতে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের তরফে এ বিষয়ে একটি স্থায়ী নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত এই স্থানগুলিতে প্রতিবাদ ও ধরনা কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। তবে সিদ্ধান্তটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হওয়ায় মামলার শুনানির দিকে নজর রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জন্তর মন্তর রাজনৈতিক প্রতিবাদ, সামাজিক আন্দোলন এবং বিভিন্ন সংগঠনের দাবিদাওয়া তুলে ধরার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে এখানে ধরনা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে।
জন্তর মন্তর নয়াদিল্লি জেলায় অবস্থিত। এর আশপাশে সংসদ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনের মতো সংবেদনশীল এলাকা রয়েছে। এই অঞ্চলে বড় আকারের প্রতিবাদ কর্মসূচি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ বাড়ে।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভের কারণে নয়াদিল্লি জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হয়েছিল। কয়েকটি ক্ষেত্রে রাস্তা ও মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত প্রভাবিত হয়। রেলস্টেশনে যাওয়া যাত্রীদেরও যান চলাচলজনিত সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পিছনে সংবেদনশীল সরকারি এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রতিবাদের কারণে সৃষ্ট যান চলাচলের সমস্যা কমানোর প্রয়োজনীয়তাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। নতুন স্থানগুলিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ব্যবস্থা হলে বিক্ষোভকারীরা নির্ধারিত জায়গায় নিজেদের দাবি জানাতে পারবেন এবং নয়াদিল্লির ব্যস্ত এলাকাগুলিতে চাপ কমানোর চেষ্টা করা যাবে।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, রামলীলা ময়দান জন্তর মন্তর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানের দূরত্ব প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার এবং বুরাড়ি ময়দানের দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার।
এই স্থানগুলিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় ও সংবেদনশীল এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নতুন স্থানগুলিতে পৌঁছনোর সুবিধা, গণপরিবহণের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও প্রতিবাদকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেব সাম্ব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা।
মামলাটি জনসাধারণের স্থানে প্রতিবাদ জানানোর ব্যবস্থা সম্পর্কিত হওয়ায় আদালতের শুনানি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের সামনে নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিক ও সংগঠনগুলির শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানানোর জন্য উপযুক্ত স্থান নিশ্চিত করার বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত। আদালতের শুনানিতে এই সিদ্ধান্তের আইনি দিকগুলি নিয়ে পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।











