আসামে রাজধানী এক্সপ্রেসের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ, ইঞ্জিন ও ৫টি বগি লাইনচ্যুত

আসামের লুমডিং ডিভিশনে রাজধানী এক্সপ্রেসের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষে ইঞ্জিন ও ৫টি বগি লাইনচ্যুত। হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

আসামের লুমডিং ডিভিশনে শনিবার ভোরে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন সরাইং-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস বন্য হাতির দলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যার ফলে ট্রেনের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

দুর্ঘটনার খবর: আসামে শনিবার সকালে একটি মর্মান্তিক এবং বিরল রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা দেশ மட்டுமல்ல, আন্তর্জাতিক স্তরেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং রেল নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (NFR) লুমডিং ডিভিশনে সরাইং-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস বন্য হাতির একটি দলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

এই ভয়াবহ সংঘর্ষে ট্রেনের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়, এবং কমপক্ষে ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হল, এই দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কোথায় এবং কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে?

দুর্ঘটনাটি আসামের হোজাই জেলার জামুনামুখ-কামপুর রেলপথে ঘটেছে, যা গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে রাজধানী এক্সপ্রেস তার নির্ধারিত পথে দ্রুত গতিতে চলছিল, তখনই হঠাৎ রেললাইনের উপর বন্য হাতির একটি দল চলে আসে। চালককে সামলে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ট্রেনটি হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে এই দুর্ঘটনায় ৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এই এলাকাটি হাতির ঐতিহ্যবাহী চলাচল পথ (এলিফ্যান্ট করিডোর) হিসাবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে রেললাইন এবং জঙ্গলের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে। এই দুর্ঘটনাটি কেবল একটি রেল দুর্ঘটনা নয়, বরং জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটি গুরুতর সতর্কতাও বটে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং রেলওয়ের পদক্ষেপ

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা সমস্ত যাত্রী নিরাপদে আছেন। কেউ গুরুতর আহত হননি। ক্ষতিগ্রস্ত বগির যাত্রীদের ট্রেনের অন্যান্য বগিতে উপলব্ধ খালি बर्थে সাময়িকভাবে বসানো হয়েছে। এছাড়াও, যাত্রীদের পরবর্তী যাত্রার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হয়েছে।

এনএফআর জানিয়েছে, উদ্ধারকারী ট্রেন, প্রযুক্তিগত দল এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। লাইনচ্যুত বগিগুলি সরিয়ে ট্র্যাক পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত চলছে। গুয়াহাটিতে পৌঁছানোর পর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সকল যাত্রীর আরামদায়ক এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।

Leave a comment