পিপলকোটির DRT টানেলে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু ৩ জন নিখোঁজ

উত্তরাখণ্ডের চামোলির পিপলকোটিতে নির্মাণাধীন হাইড্রো প্রজেক্টের DRT টানেলে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ জনের সন্ধানে SDRF, NDRF ও প্রশাসনের দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার পিপলকোটিতে নির্মাণাধীন একটি হাইড্রো প্রজেক্টের DRT টানেলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনায় টানেলের ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আটকে পড়েন। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে, ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং ৩ জনের সন্ধান চলছে।

চামোলির পিপলকোটি এলাকায় একটি হাইড্রো প্রজেক্টের জন্য টানেল নির্মাণের কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬:৩০টা থেকে ৭টার মধ্যে টানেলের ভেতরে একটি ক্যাভিটি থেকে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ বেরিয়ে আসে। সেই সময় শ্রমিকরা টানেলের ভেতরে নির্মাণকাজে নিযুক্ত ছিলেন।

ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে শ্রমিকরা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত সময় পাননি। টানেলের ভেতরে হঠাৎ তীব্র শব্দের সঙ্গে পানি ও ভারী ধ্বংসাবশেষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

টানেলটি প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনাটি টানেলের প্রায় ১.৮ কিলোমিটার ভেতরে ঘটে। টানেলের প্রবেশপথ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত পানি ও ধ্বংসাবশেষ পৌঁছে যাওয়ায় একাধিক শ্রমিক এর কবলে পড়েন।

টানেলের ভেতরে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়ে। পানির সঙ্গে আসা ভারী কাদা ও ধ্বংসাবশেষ টানেলের বিভিন্ন অংশে পথ বন্ধ করে দেয়। কিছু এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের অত্যন্ত সীমিত জায়গায় পৌঁছে আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধান করতে হচ্ছে।

প্রাথমিক তথ্যে টানেলের ভেতরে ২২ জন শ্রমিক আটকে থাকার কথা জানা গিয়েছিল। উদ্ধারকারী দল ১৮ জনকে নিরাপদে বের করে আনে। পরে ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়, আর ৩ জনের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রাতের সময় টানেলের ভেতরে ক্রমাগত ধ্বংসাবশেষ জমা হওয়া এবং অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

SDRF, NDRF, জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা আধুনিক সরঞ্জাম ও উপলব্ধ সম্পদের সাহায্যে টানেলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

টানেলের ভেতরে নির্মাণকাজের সময় গ্র্যাভিটি প্যাকিংয়ের কাজ চলছিল। এর মধ্যেই ক্যাভিটি থেকে পানি ও ধ্বংসাবশেষ বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি কর্মকর্তাদের দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী পুরো উদ্ধার অভিযানের ওপর নজর রাখছেন এবং উদ্ধার অভিযান যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, টানেল নির্মাণকাজে উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ডের শ্রমিকরাও কর্মরত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ওই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলে দুর্ঘটনা ও উদ্ধার অভিযানের তথ্য শেয়ার করেছেন।

 

Leave a comment