ব্যাংক কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রধান সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস (UFBU) সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে দেশব্যাপী ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। UFBU-র অন্তর্ভুক্ত ৯টি প্রধান ব্যাংক সংগঠন সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ চালুর দাবিসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা করেছে।
UFBU প্রথম পর্যায়ে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেশব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। দিনটি শুক্রবার। এরপর ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টানা তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্যাংক ইউনিয়নগুলির অন্যতম প্রধান দাবি সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের ব্যবস্থা চালু করা। বর্তমানে সাধারণত মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকে, অন্য শনিবার শাখাগুলি খোলা থাকে। পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হলে শনিবার ও রবিবার নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি হতে পারে।
ইউনিয়নগুলি সরকারের পরিবর্তিত পারফরম্যান্স-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ (PLI) ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছে। UFBU-র মতে, এই বিষয়গুলিতে সরকারের অবস্থান ইতিবাচক না হওয়ায় আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
![]()
UFBU আন্দোলনের আরও কঠোর পর্যায়ের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। ইউনিয়নগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, দাবিগুলির সমাধান না হলে ২৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের দেশব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘট শুরু করা হতে পারে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে কোনো সমঝোতা বা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক কর্মীরা কাজে ফিরবেন না। তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ধর্মঘটের সময় ব্যাংক শাখায় নগদ জমা ও উত্তোলন, চেক-সংক্রান্ত কাজ, ড্রাফট, নথি জমা এবং অন্যান্য কাউন্টার পরিষেবা প্রভাবিত হতে পারে। বিপুল সংখ্যক কর্মী ধর্মঘটে যোগ দিলে শাখার কাজের গতি কমতে পারে।
অন্যদিকে, UPI, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং কিছু ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চালু থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো পরিষেবা চালু থাকবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্মঘট হলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬-এ ব্যাংক শাখার স্বাভাবিক কাজকর্ম প্রভাবিত হতে পারে। ব্যাংকিং পরিষেবার প্রকৃত প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, স্থানীয় ব্যবস্থা এবং কর্মীদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে।






