দুর্গাপুজোর আনন্দ শুরু হওয়ার আগেই রাস্তায় বেরিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন বারাসাতের বাসিন্দারা। অফিসযাত্রী থেকে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, এমনকী জরুরি কাজে বেরোনো মানুষকেও যানজটে আটকে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। একদিকে টোটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, অন্যদিকে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং—এই দুই সমস্যায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার গতি কার্যত থমকে যাচ্ছে। সামনে পুজোর ভিড়, তাই যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুজোর আগেই যানজটে নাকাল বারাসাতবাসী
উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসাতে যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়গুলিতে ব্যস্ত সময়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। এর জেরে গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। শুধু যানবাহনে যাতায়াত নয়, রাস্তা ও ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে চলাচল করতেও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে।
বিশেষ করে কেএনসি রোডের হরীতলা থেকে বড়বাজার এবং বারাসাত আদালত চত্বরের মতো ব্যস্ত এলাকায় যানজটের প্রভাব বেশি পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। রাস্তার পাশে যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগও উঠেছে। ফলে রাস্তার ব্যবহারযোগ্য অংশ কমে গিয়ে যান চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ছে।
টোটোর দাপটে বাড়ছে ভোগান্তি
বারাসাতের যানজট সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে টোটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। অভিযোগ, জাতীয় সড়কে টোটো চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু টোটো সেখানে চলাচল করছে। এর ফলে ব্যস্ত রাস্তায় যানবাহনের গতি কমছে এবং যানজট আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অফিসে যাওয়া, স্কুল-কলেজে পৌঁছনো কিংবা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া নজরদারির দাবি উঠছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বেআইনি পার্কিংও বড় সমস্যা
শুধু টোটোর চলাচল নয়, রাস্তার পাশে অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংও যানজটের অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ। ব্যস্ত বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের আশপাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। তার উপর একই সময়ে প্রচুর যানবাহন চলাচল করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
যশোর রোডের অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ অংশগুলিতেও যানবাহনের চাপের কারণে গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। শহরের একাধিক রাস্তায় এই সমস্যা দেখা দেওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াত ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
পুজোর ভিড়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
বারাসাতে বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়। পুজোর দিনগুলিতে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ মণ্ডপ দর্শনে আসেন। ফলে রাস্তা, বাজার এবং পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে যে যানজটের সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে পুজোর অতিরিক্ত ভিড় সামলানো জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা তাই অত্যন্ত জরুরি।
স্থায়ী সমাধানের দাবি শহরবাসীর
যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের তরফে চেষ্টা চালানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাইছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বেআইনি পার্কিং বন্ধ করতে হবে, জাতীয় সড়কে নিয়মবহির্ভূত টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে নজরদারি বাড়াতে হবে।
এখন নজর পুজোর দিনগুলিতে প্রশাসনের বিশেষ পরিকল্পনার দিকে। যান নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না এবং বারাসাতের রাস্তায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত কতটা স্বস্তিদায়ক করা যায়, সেটাই দেখার।
দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত শহরে যানজটের সমস্যা তীব্র আকার নিয়েছে। কেএনসি রোডের হরীতলা থেকে বড়বাজার, বারাসাত আদালত চত্বর এবং যশোর রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিনই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। জাতীয় সড়কে নিয়ম অমান্য করে টোটো চলাচল এবং রাস্তার পাশে বেআইনি পার্কিং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। পুজোর সময় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে যানজট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা শহরবাসীর।











